অল্পের জন্য হলো না ২৩-০!

নেপালের জাল কাঁপানোর পর সাবিনাদের উল্লাস।
নেপালের জাল কাঁপানোর পর সাবিনাদের উল্লাস।ছবি : সংগৃহীত

স্বপ্নের এক টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। সাফ ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। অথচ এ আসরে হট ফেভারিট ছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। আগের চার আসরে ফাইনাল খেলা স্বাগতিক নেপালও হুংকার ছাড়ছিল। এমন দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের ছিল না ম্যাচ জয়ের কোনো রেকর্ড।

সেই বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে আসর শেষ করে এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল। সাবিনা, কৃষ্ণাদের কল্যাণে গড়েছে তারা নতুন এক গোলের রেকর্ডও। নেপালকে গুঁড়িয়ে নারী ফুটবলারদের সাফের শিরোপা উৎসবে মাতোয়ারা গোটা বাংলাদেশ। বইছে অভিনন্দনের জোয়ার।

নেপালের জাল কাঁপানোর পর সাবিনাদের উল্লাস।
স্বপ্নপূরণ : নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

গোলের খেলা ফুটবল। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সেই কাজটিই করেছেন দারুণ দক্ষতায়। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে গুনে গুনে ২৩ বার। বিপরীতে গোল হজম করতে হয়েছে মাত্র একটি। সেটিও আসরের ফাইনালে। আজকের গোলটি না হলে বিনা গোল হজমে সাফ ফুটবলে শিরোপা জয়ের এক নতুন রেকর্ড গড়ত সাবিনা ব্রিগেড। অল্পের জন্য হলো না ২৩-০, হলো ২৩-১।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।ছবি : সংগৃহীত

ফাইনাল বাদে আসরের চার ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি বাংলাদেশ। দলের আক্রমণভাগ যেমন ছিল তুখোড়, তেমনি রক্ষণভাগও ছিল জমাট। গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে ছিলেন যেন রুপনা চাকমা। ফাইনালেও কয়েকবার দলকে বাঁচিয়েছেন নিশ্চিত গোল থেকে।

আসরে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। সাবিনার জোড়া গোলে প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৩-০ তে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে সাবিনার হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশের কাছে ৬-০ গোলে হেরে বিধ্বস্ত হয় পাকিস্তান। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতকে প্রথমবারের মতো হারায় বাংলাদেশ, স্কোর ছিল ৩-০। স্বপ্না করেন জোড়া গোল।

এ উল্লাস শিরোপা জয়ের।
এ উল্লাস শিরোপা জয়ের।ছবি : সংগৃহীত

সেমিতে ওঠা বাংলাদেশের সামনে ছিল ভুটান। এ ম্যাচে ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। এদিন দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেন সাবিনা। চার ম্যাচে বাংলাদেশের গোল ছিল ২০টি, বিপরীতে প্রতিপক্ষের নেওয়া কোনো শট অতিক্রম করেনি বাংলাদেশের গোল লাইন। ফাইনালের তিন গোল মিলিয়ে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের গোলসংখ্যা ২৩। বিপক্ষের একমাত্র গোলটিও এ ম্যাচে। আর সেটি না হলে গোল হজম না করার নতুন এক কীর্তি দিয়েই আসর শেষ করতে পারত বাংলাদেশ।

নেপালের জাল কাঁপানোর পর সাবিনাদের উল্লাস।
বাংলাদেশ দলকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের অভিনন্দন

টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। দুটি হ্যাটট্রিকে তার গোল ৮টি। জিতেছেন গোল্ডেন বুট। চারটি করে গোল করে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের সিরাত জাহান স্বপ্না, কৃষ্ণা রানী সরকার, ভারতের আঞ্জু তামাং ও পাকিস্তানের নাদিয়া খান।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com