‘আমাদের গোনায় রাখুন’

‘আমাদের গোনায় রাখুন’

ম্যাচ জেতার পরোক্ষ হুঁশিয়ারিতে স্পেনের বস লুইস এনরিকে সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আগামীতে যার সঙ্গেই ম্যাচ হোক না কেন, লা রোজা দলকে গোনায় রাখতে হবে।’ কনকাকাফ জোনের দল কোস্টারিকাকে ৭-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়ার পর উৎফুল্ল কোচ এনরিকে টেলিভিশন এসপানোলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সচেতনভাবেই তার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন। ভক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে এনরিকে যা গুছিয়ে বললেন, তার সারমর্ম হতে পারে এ রকম : ‘দলকে জেতাতে ভক্তরা যেসব ইতিবাচক কর্মতৎপরতা দেখিয়েছেন, তা এক কথায় অসাধারণ ও দলের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। আমার মাথায় এখন শুধু একটাই চিন্তা। তা হচ্ছে, আগামীকালই আমাদের জার্মানির বিপক্ষে নামার প্রস্তুতি নিতে হবে। এটা জানি, বেশি প্রশংসা মানুষকে দুর্বল বানিয়ে দিতে পারে। তাই প্রশংসাকে এতটা গায়ে মাখছি না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব ম্যাচেই একই ধাঁচে খেলে যাওয়া। আমি এটাও ভালো করে জানি, বাকি ম্যাচগুলোতে আমরা এত বড় ব্যবধানে জয় নাও পেতে পারি। কিন্তু আমরা যে একটা প্রবল প্রতিপক্ষ, যারা ফুটবল বোঝেন, তাদের এটা মানতেই হবে।’

বুধবার কাতারের আল থুমামা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গড়ায়। আর বিশ্বকাপে এটাই স্পেনের সবচেয়ে বড় মাপের জয়। আগামী রোববার ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশরা চারবারের শিরোপাজয়ী জার্মানদের মুখোমুখি দাঁড়াবে।

ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ স্টাইকার ফেরান তোরেস বলেন, ‘আমরা বেশ খুশি হয়েছি। আমরা জানতাম, ম্যাচটি খুব একটা সহজ হবে না। তার পরও আমরা প্রথমার্ধেই বেশ এগিয়ে যেতে পেরেছি। অবশ্য এজাতীয় টুর্নামেন্টে বেশি গোল ইতিবাচক প্রমাণিত হয়। তাই আমরা আরও গোল প্রত্যাশা করছি।’ অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে তোরেস বলেন, ‘আমরা এখন জার্মানিকে নিয়ে ভাবছি। তারা কীভাবে খেলে তার ভিডিও দেখব। আসলে আমরা ওদের মোকাবিলার জন্য মুখিয়ে আছি। বিশ্বকাপ আমরা জিতব কিনা, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে এতটুকু বলতে চাই, আমাদের দলটি সত্যিই অসাধারণ। প্রতিপক্ষের জন্য আমরা ম্যাচকে বেশ কঠিন বানিয়ে দিতে পারব। আমাদের চোখ যে বড় কিছুতে গেঁথে গেছে।’

ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় দানি ওলমো গোলের খাতা খোলেন। এর দশ মিনিট পর জর্দি আলবার দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেন মারকো আসেনসিও।

কোস্টারিকা তেমন কোনো পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। সারাক্ষণই নিজেদের রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু ৩১ মিনিটের মাথায় কোস্টারিকার ডিফেন্ডার দুয়ার্তে বক্সের মধ্যেই কড়া ফাউল করেন আলবাকে। স্বাভাবিক নিয়মে তারা পেনাল্টি পায় এবং পেনাল্টি মিস করেননি ফেরান তোরেস। ম্যাচের শুরু থেকে চালকের আসনে বসে যায় স্প্যানিশরা। এই ম্যাচের আরেকটি দিক ছিল স্প্যানিশ তারকা পাবলো গাভির গোল। ১৯৫৪ সালে ব্রাজিলিয়ান তারকা পেলের পর সবচেয়ে কম বয়সী তারকা হিসেবে গাভি গোলটি করেন। স্ট্রাইকার কার্লোস সুলার এবং বদলি খেলোয়াড় আলভেরো মুরাতাও একটি করে গোল করেন ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই স্পেন গোলের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারত। পেদ্রির একটি ডিপ ক্রস পান ফাঁকায় দাঁড়ানো ওলমো; কিন্তু তার শট বারের বেশ বাইরে দিয়ে উড়ে চলে যায়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com