জিতলে ম্যাচ ‘বাজে’ থাকে না

জিতলে ম্যাচ ‘বাজে’ থাকে না

জেতার পর কূটনীতিক মেজাজে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রেড ডেভিলস কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেন, ‘যখন আপনি পারফরম্যান্স দিয়ে একটি ম্যাচ মাপতে যাবেন, সন্দেহ নেই টেকনিক্যাল দিক থেকে আজকের (গতকাল) ম্যাচটিকে ‘বাজে’ ম্যাচই বলবেন। কিন্তু এটিই তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ নয়। কারণ, আমরা তো ম্যাচ জিতেছি। বিজয়ীরা কি ম্যাচকে ওভাবে দেখে?’ মানুন অথবা নাইবা মানুন, রবার্তো মার্তিনেজের এই ফুটবল-ফতোয়া বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

এদিকে, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা কানাডা বেশ লড়লেও ম্যাচটিকে ইতিবাচক বানাতে পারেনি। অন্যদিকে প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে মিচি বাতসুয়ির দেওয়া গোলে বেলজিয়াম ১-০ গোলে জিতে তিন পয়েন্ট নিজেদের নামের পাশে লেখাতে পেরেছে। উত্তর আমেরিকান টিম কানাডার কপাল বেশ মন্দই বলতে হবে। কারণ, তারা ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়েও গোল নিশ্চিত করতে পারেনি। কানাডার আলফেনসো ডেভিসের শটটি বেশ দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তুয়া। বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের এই ম্যাচটি আহমদ বিন আলী স্টেডিয়ামে বুধবার গভীর রাতে সম্পন্ন হয়।

ম্যাচে ভার প্রযুক্তিও বেশ খানিকটা বিতর্কের জন্ম দিতে পেরেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ‘এই ম্যাচে কানাডা কি কমপক্ষে তিনটি পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিল না?’ আবার অফসাইড দণ্ডে কানাডার একটি গোল বাতিল ঘোষিত হয়। এ ছাড়া দলটির মিডফিল্ডার বুকানন মাত্র ছয় গজ দূর থেকে সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি।

রেড ডেভিলস অবশ্য তাদের সেরা তারকা রোমেলু লুকাকুকে ছাড়াই মাঠে নেমেছে। ইনজুরির কারণে লুকাকু খেলতে পারছেন না। অ্যাটাকিং লাইনআপে লুকাকুর অনুপস্থিতির কারণে দলটাকে বেশ অগোছালো মনে হচ্ছিল।

খেলার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনা। রাখঢাক ছাড়াই উগরে দিলেন, ‘মোটেও ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারিনি। ম্যাচটাকে আমরা নিজেরাই নিজেদের জন্য কঠিন বানিয়ে ফেলেছি। এতে দলের সব সদস্যের ওপর চাপ বেড়ে যায়। আমাকেসহ সবাইকে আরও ভালো খেলতে হবে।’ অথচ ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ নামে পরিচিত বেলজিয়াম দলটি বেশ বড়সড় প্রত্যাশা নিয়েই কাতার এসেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডা বেলজিয়ান লাইনআপে এতটাই চাপ সৃষ্টি করে যে, এটা বোঝা যায়নি, বেলজিয়ানরাই এখন ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে অথবা এরাই ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান দখল করেছিল।

হারের পর কানাডার কোচ হার্ডম্যান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ওপেনিং ম্যাচে হেরে যাওয়ায় তার দলও মোটেও বিস্মিত হয়নি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, কনকাকাফ জোন থেকে মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের মতো ফুটবল পাওয়ার হাউসকে পেছনে ফেলে শীর্ষে ছিল কানাডা।

উল্লেখ্য, কানাডা সর্বশেষ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ১৯৮৬ সালে এবং তিনটি ম্যাচেই তারা হেরেছিল।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com