সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলার বিবেচনা করা হয় যাদের

সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের কয়েকজন
সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের কয়েকজন

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খেলা হয়ে উঠেছে ক্রিকেট। এ খেলায় ব্যাটাররা যেমন মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন, তেমনি ফাস্ট বোলাররও। কোনো একজন ফাস্ট বোলার এক ওভারেই ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচ। যে কারণে গতিময় বোলাররা সবসময়ই আলোচনার তুঙ্গে থাকেন। তেমনই সর্বকালের সেরা কয়েকজন ফাস্ট বোলারকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। চলুন দেখা যাক বিভিন্ন সময় কীভাবে তারা ম্যাচের ফলাফল বদলে দিয়েছেন।

গ্লেন ম্যাকগ্রা

গ্লেন ম্যাকগ্রা সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের মধ্যে একজন। তিনি ধারাবাহিক এবং দুর্দান্ত ছিলেন। ম্যাকগ্রা গতির ঝড় তুলে ব্যাটারদের আতঙ্কিত করতেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের অন্যতম অস্ত্র ছিলেন তিনি। ম্যাকগ্রা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি আইসিসি হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। গ্লেন ম্যাকগ্রা ক্রিকেটের একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি এবং সর্বদা গ্রেটদের একজন হিসেবে স্মরণ করা হয় তাকে।

ওয়াসিম আকরাম

ওয়াসিম আকরামকে সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি একজন বাঁহাতি পেস বোলার ছিলেন। ওয়াসিম আকরাম একমাত্র পাকিস্তানি বোলার যিনি টেস্টে ৪০০ উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ৫০২ উইকেটসহ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তান থেকে শীর্ষস্থানীয় উইকেট শিকারী। আকরাম ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন।

ওয়াকার ইউনিস

ওয়াকার ইউনিস ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি। তিনি একজন পাকিস্তানি ডানহাতি ফাস্ট বোলার ছিলেন। রিভার্স সুইং বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন ইউনিস। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৭৩ উইকেট নিয়ে তিনি দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানি উইকেট শিকারী। এ ছাড়া তিনি ৪১৬ উইকেট নিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ওয়াকার রান বেশি দিলেও টেস্ট ক্রিকেটে তার অসাধারণ স্ট্রাইক রেট ছিল। বর্তমানে তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের বোলিং কোচ।

ডেনিস লিলি

ডেনিস লিলি নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন। তিনি ছিলেন দ্রুত, আক্রমণাত্মক এবং উভয় দিকেই বল সুইং করাতে পারদর্শী। লিলিও দুর্দান্ত স্ট্যামিনার অধিকারী ছিলেন এবং দীর্ঘ স্পেল বল করতে পারতেন। ব্যাটার হিসেবেও ছিলেন ভয়ঙ্কর। দ্রুত রান করতে সক্ষম ছিলেন তিনি। একই টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি ও দশ উইকেট নেওয়া মাত্র কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে লিলি একজন। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭০টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৩৫৫টি উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার।

ডেল স্টেইন

অনেকেই ডেল স্টেইনকে সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন বলে মনে করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে আইসিসির তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ টেস্ট বোলার হিসেবে স্থান পেয়েছেন। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর স্টেইন দ্রুতসময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি মাত্র ২২-এর বেশি গড়ে ৪০০টিরও বেশি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ব্যতিক্রমীভাবে সফল হয়েছেন। মাত্র ২৬ বছরের কম বয়সে গড়ে প্রায় ২০০ উইকেট রয়েছে তার।

স্টেইনের দ্রুত এবং উভয় দিকেই বল সুইং করার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি ইংল্যান্ডে বিশেষভাবে সফল হয়েছেন যেখানে তিনি ২৭ বছরের কম বয়সে প্রায় ১০০টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে তিনি আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়ারও ছিলেন।

কার্টলি অ্যামব্রোস

কার্টলি অ্যামব্রোস সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন। তিনি ১৯৬৩ সালে অ্যান্টিগায় জন্মগ্রহণ করেন এবং অল্প বয়সে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক হয় অ্যামব্রোসের। এরপর দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোলারদের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। অ্যামব্রোস ৪০০টিরও বেশি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন। কার্টলি অ্যামব্রোস দীর্ঘ স্পেল বল করতে পারতেন।

অ্যালান ডোনাল্ড

অ্যালান ডোনাল্ড ছিলেন ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলারদের একজন। উচ্চ গতিতে বল করতে এবং ধারাবাহিকভাবে ব্যাটের শীর্ষে আঘাত করার জন্য খ্যাতি ছিল তার। তিনি উচ্চ গতিতে বল রিভার্স সুইং করার ক্ষমতার জন্যও পরিচিত ছিলেন ডোনাল্ড। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে দেশের হয়ে তার টেস্ট অভিষেক হয়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মোট ৭২টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ২২ দশমিক ২৫ গড়ে ৩৩০ উইকেট নেন। এ ছাড়া ডোনাল্ড ১৬৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ২১ দশমিক ৭৮ গড়ে ২৭২ উইকেট নিয়েছেন। তাকে সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন বলে মনে করা হয়।

ম্যালকম মার্শাল

ম্যালকম মার্শালকে প্রায়ই সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি উচ্চ গতিতে বল রিভার্স সুইং করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত এবং একজন অত্যন্ত নির্ভুল বোলারও ছিলেন। তার ক্যারিয়ারে তিনি টেস্ট ম্যাচে ৩৭৬ উইকেট এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৫৭ উইকেট নিয়েছিলেন। ম্যালকম মার্শাল ১৯৮০-এর দশকের সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়কও ছিলেন। দুঃখজনকভাবে মার্শাল ১৯৯৯ সালে ক্যান্সারের সেঙ্গ যুদ্ধ করার পর মাত্র ৪১ বছর বয়সে মারা যান।

এই বোলাররা তাদের ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত কিছু অর্জন করেছেন। তারা ক্রিকেটে যে ব্যাপক প্রভাব রেখে গেছেন আগামী বহু বছর ধরে তা ক্রিকেট অঙ্গনের খেলোয়ার ও ভক্তসহ অসংখ্য মানুষ মনে রাখবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com