ফেসবুক থেকে ৬৬ শতাংশ তথ্য পেয়েছে সরকার

ফেসবুক থেকে ৬৬ শতাংশ তথ্য পেয়েছে সরকার
প্রতীকী ছবি।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য চেয়ে মোট ৬৫৯টি আবেদন করে বাংলাদেশ সরকার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬৬ দশমিক ০১ শতাংশ তথ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিনিময় করেছে মেটা। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ (বিটিআরসি) বিভিন্ন সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬৫টি কনটেন্ট ‘রেস্ট্রিক্ট’ বা সীমাবদ্ধও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে মেটা আবেদনের শতভাগ সাড়া দেবে বলে আশা করছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

২০২২ সালের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন মাস নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রকাশ করে ফেসবুক তথা মেটা। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ছয় মাসে প্ল্যাটফর্মটির কাছে তথ্য চেয়ে মোট ৬৫৯টি আবেদন করে বাংলাদেশি বিভিন্ন সংস্থা। এই সংখ্যা ২০২১ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ। সে বছরের প্রথমার্ধে তথ্য চেয়ে তৎকালীন ফেসবুকের কাছে ২৭১টি আবেদন করা হয়েছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

এ বছরের প্রথমার্ধের আবেদনগুলোর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করা হয় ৬১০টি। আর জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয় ৪৯টি। এসব আবেদনের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ১৭১টি আইডির বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়।

সরকার বা সরকারের পক্ষে বিভিন্ন সংস্থার এসব আবেদনের ৬৬ শতাংশ অনুরোধে সাড়া দেয় মেটা। গতবছরের একই সময়ে ৫০ শতাংশ আবেদনে সাড়া দিয়েছিল ফেসবুক।

অন্যদিকে এই ছয় মাসে বাংলাদেশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১৬৫টি কনটেন্ট সীমাবদ্ধ করে মেটা। মেটার সীমাবদ্ধ করার অর্থ হচ্ছে, কোন কোন ক্ষেত্রে কনটেন্ট পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা কনটেন্ট থাকলেও সেটিতে কারও প্রবেশাধিকার রাখা হয়নি। সীমাবদ্ধ করা ১৬৫টির কনটেন্টের মধ্যে ১৪৪টির বিষয়ে আবেদন করেছিল বিটিআরসি। বাংলাদেশে বলবৎ থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, মিথ্যা গুজব ছড়ানো, অশ্লীল আচরণ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে এসব কনটেন্ট সীমাবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় মেটা। এসব কনটেন্টের ১৫১টি স্থানীয় পর্যায়ে এবং বাকি ১৪টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ফেসবুক গ্রুপ ও পেইজ, ১৩৭টি ফেসবুক পোস্ট, ১০টি ফেসবুক আইডি এবং ১৩টি ইনস্টাগ্রাম আইডি রয়েছে।

সরকারি আবেদনে মেটার তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘মেটা এখন আমাদের ৬৬ শতাংশ আবেদনে সাড়া দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের আশা, তারা আমাদের শতভাগ আবেদনে সাড়া দেবে। ২০১৮ সালে যখন আমি দায়িত্ব নেই, তখন এটি শূন্যের কোঠায় ছিল। সেখান থেকে এটি ৬৬ শতাংশে আনতে বুকের মাটি ছিঁড়ে গেছে। তবে আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছু আমরা হতে দিতে পারি না।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com