৯৭ লাখ টাকা প্রতারণা, প্রতারক চক্র শনাক্তের দাবি ‘বিনিময়’ কর্তৃপক্ষের

বিনিময় অ্যাপ
বিনিময় অ্যাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বিনিময়’ অ্যাপ ব্যবহার করে ৯৭ লাখ টাকা প্রতারণার ঘটনায় দায়ী চক্রকে শনাক্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। আজ শুক্রবার বিনিময় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্বোধন করেছে ‘বিনিময়’ অ্যাপ; যা সর্বজনীন ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। এ অ্যাপে স্বচ্ছতার পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও সুরক্ষিত লেনদেন নিশ্চিত হবে এবং সেই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমবে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিনিময় অ্যাপ উদ্বোধনের পরপরই একটি চক্র সহজভাবে এটাকে মেনে নিতে পারছে না। বাজারে উপস্থিত থাকা অনেকেই আরও সহজ, নিরাপদ ও কম খরচে বহুমাত্রিক কোনো সেবা আসুক তা মেনে নিতে পারছে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, বিনিময় অ্যাপ ব্যবহারে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয়। এ প্রতারক চক্র মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সেলফিন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ‘বিনিময়’ প্লাটফর্মে প্রবেশ করে তাদের নিজেদের বিকাশের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে টাকা ট্রান্সফারের অনুরোধ পাঠায়।

‘বিনিময় অ্যাপ কর্তৃপক্ষ তাদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্রের লোকেশন ও যাবতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে সিআইডি বগুড়া থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশের এক এজেন্টসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।  অন্যরা নজরদারিতে রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি দল অসচ্ছতার মাধ্যমে তাদের নেতাকর্মীদেরকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে বগুড়াতে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশের আগে আগে সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না- এমন প্রতারণায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটাও খতিয়ে দেখছে।

বাংলাদেশে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডরদের গেটওয়ে ব্যবহার করে ডিজিটাল ট্রান্সজেকশন করছে বেশ কিছু প্রতারক চক্র। প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কারণে প্রায়ই সেসব অপরাধী ধোরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।’ বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিময় অ্যাপের অ্যাডভান্স প্রযুক্তি প্রতারকদের অবৈধ ট্রান্সজেকশন রুখে দিতে পারে। বগুড়ার ঘটনাও তেমনি একটি উদাহরণ। প্রথমবারের মতো বিনিময় কর্তৃপক্ষই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের মার্কেটে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলোর (এমএফএস) কার্যক্রম লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার নামে একে অন্যকে ঘায়েল করার চেষ্টা প্রকাশ্যেই করে। বিজ্ঞাপন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে এমনটা হরহামেশাই দেখা যায়। বিনিময় এমন একটি অ্যাপ যেখানে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং পেমেন্ট সিস্টেম প্রোভাইডরদের সব অ্যাকাউন্টকে ইন্টারঅপারেবল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি গ্রাহক, ব্যবসায়ী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডরদের (পিএসপি), ই-ওয়ালেট, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনের সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। ‘বিনিময়’ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন, যেমন : কর্মচারীদের বেতন দেওয়া, রেমিট্যান্স পাঠানো, ট্যাক্স/ভ্যাট দেওয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ই-কমার্স সম্পর্কিত লেনদেন সাশ্রয়ী, সহজ ও স্বচ্ছ করবে এবং সেটা অন্য সার্ভিস প্রোভাইডরদের থেকে তুলনামূলক অনেক কম খরচে করা যাবে।

বিনিময় অ্যাপটি অত্যন্ত সুরক্ষিত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি লেনদেনের জন্য একটি দ্বি-মাত্রিক প্রমাণীকরণ (টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। যদি সেবাগ্রহীতা নিবন্ধন বা লেনদেন সম্পর্কিত কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন, সেক্ষেত্রে তিনি ব্যবহৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমাধান পাবেন। তাই সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, ‘বিনিময়’ সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার জন্য অতিসত্বর নিজ নিজ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com