মার্কিন সেনা আবিষ্কৃত প্রযুক্তিতে চলে ফেসবুকের লাইভ!

মেটা, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম
মেটা, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম

সাবেক এক মার্কিন সেনার আবিষ্কৃত প্রযুক্তিতে চলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের লাইভ ফিচার। আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মার্কিন বাহিনীর মধ্যে দ্রুততম যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ওই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছিলেন তখনকার এক মার্কিন সেনা। পরে সেই প্রযুক্তি হাতিয়ে নিয়েই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে লাইভ সুবিধা চালু করা হয়। তবে এজন্য আবিষ্কারকে কোনো স্বীকৃতি বা স্বত্ব দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথমে এই প্রযুক্তি নিয়ে ভক্সারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার প্রস্তাব দেয় ফেসবুক। পরে কোনো চুক্তি না করেই সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের লাইভ ফিচার চালু করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এমনটাই প্রমাণিত হয়। আর এজন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বর্তমান মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা’কে ১৭৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করে আদালত।

আদালতে দায়ের করা মামলার সূত্র থেকে জানা যায়, সার্জেন্ট টম ক্যাটিস আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীর কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ ইউনিটে কাজ করতেন। ২০০৬ সালে তার দলের অন্য সদস্যদের নিয়ে দূরবর্তী অবস্থানের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য একটি প্রযুক্তি তৈরির পরিকল্পনা করেন। এই প্রযুক্তিতে দ্রুততম সময়ে বা লাইভ আকারে ভয়েস ও ভিডিও যোগাযোগ করা যাবে।

পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে টম ক্যাটিস অন্যদের নিয়ে ভক্সার নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ওয়াকিটকি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেন। এই লাইভ কমিউনিকেশন প্রযুক্তির পেটেন্ট ও নিজেদের নামে নিয়ে রাখেন টম।

এরপর ২০১১ সালে সান ফ্রান্সিস্কো ভিত্তিক ভক্সারের সাথে যৌথ উদ্যোগে ওয়াকিটকি নিয়ে কাজ করার জন্য যোগাযোগ করে ফেসবুক। আলোচনা সামনের দিকে এগোলেও শেষ পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি।

ভক্সারের অভিযোগ, আলোচনার সময় লাইভ প্রযুক্তির বিভিন্ন তথ্য দিতে হয় ফেসবুককে। আর সেই তথ্য ও ভক্সারের প্রযুক্তি ব্যবহার করেই লাইভ চালু করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করতেও সক্ষম হয় ভক্সার।  

এজন্য মেটা’কে ১৭৪.৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে টেক্সাসের ফেডারেল কোর্ট। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে ফেসবুকের আইনজীবী।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com