সৌরজগতের ইতিহাস জানতে গ্রহাণুর খোঁজে বিজ্ঞানীরা

সৌরজগতের ইতিহাস জানতে গ্রহাণুর খোঁজে বিজ্ঞানীরা
প্রতীকী ছবি।

মহাবিশ্বের অজানা সব রহস্য উদ্ঘাটনে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফলে মহাকাশ, সৌরজগৎ সম্পর্কে জানা যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। সম্প্রতি আধুনিক টেলিস্কোপের মাধ্যমে পৃথিবীর আশপাশে অবস্থান করা কিছু গ্রহাণুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যেগুলো সৌরজগতের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ২২ জুলাই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

ওয়াশিংটন ডিসির কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্সের জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্কট শেপার্ড বলেন, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা বস্তুগুলো আবিষ্কার করা মাত্র শুরু হয়েছে। মূলত পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অসংখ্য গ্রহাণু লুকিয়ে আছে। আর এ গ্রহাণুগুলোর মাধ্যমে সৌরজগতের শুরু ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাবে বলে বিশ্বাস করেন বিজ্ঞানীরা। কারণ আগের টেলিস্কোপগুলোর মাধ্যমে সূর্যের আলোর কারণে এই আলোর আভার মধ্যে লুকিয়ে থাকা গ্রহাণুগুলো দেখতে পাওয়া যেতো না। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি ক্যামেরা এবং চিলির ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ব্ল্যাঙ্কো-৪ মিটার টেলিস্কোপ সূর্যের আলো এড়িয়ে লুকিয়ে থাকা গ্রহাণুগুলো খুঁজে বের করতে পারে।

তিনি বলেন, মহাকাশের এই গ্রহাণুগুলো এবং এদের গঠন সৌরজগতের আদি ইতিহাস বহন করে। নতুন টেলিস্কোপিক জরিপগুলোর মাধ্যমে গোধূলির সময় এ গ্রহাণুগুলোর সন্ধান করা হয়। এই জরিপে পৃথিবীর আশপাশে থাকা অনেক পুরোনো ও নতুন দুটি গ্রহ আয়লোচাক্সনিম ২০২০ এভি ২ ও ২০২১ পিএইএচ২৭ আবিষ্কার করা হয়।

প্রতীকী ছবি

এসব গ্রহাণু মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান কোনো বেল্ট থেকে সরে এসেছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কাছাকাছি ২৬ হাজারের বেশি গ্রহাণু রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার গ্রহাণুর আয়তন ৪৫০ ফুটের বেশি।

স্কট শেপার্ড বলেন, ইউএস স্পেস এজেন্সির নিয়ার আর্থ অবজেক্ট সার্ভেয়ার স্পেস টেলিস্কোপ বাকি এই গ্রহাণুগুলোও খুঁজে বের করবে। তাই ২০২৬ সালের মধ্যে মহাকাশে এই টেলিস্কোপ পাঠানো হবে। এটি পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যে অবস্থান করবে। ফলে স্পেস শিলাগুলোকে নিয়ে আরও ভালোভাবে গবেষণা করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, মহাজগতের বিপদ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অর্ধেক সংখ্যক গ্রহাণু পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করে। এগুলো তুলনামূলক ধীরগতি সম্পন্ন হয়। ফলে এই গ্রহাণুগুলোর বাকি অর্ধেক বর্তমানে শনাক্ত করা কঠিনও হতে পারে। এ ছাড়া গ্রহাণুগুলো কি পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করছে তা সম্পর্কে কম্পিউটারাইজড টেলিস্কোপগুলোকে আপডেট করতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com