কেন হয় সূর্যগ্রহণ?

সূর্যগ্রহণ।
সূর্যগ্রহণ।পুরোনো ছবি

সূর্যগ্রহণ মহাজগতের একটি বর্ণিল আকর্ষণীয় ঘটনা। এ কারণে এই গ্রহণ দেখতে মানুষের অনেক কৌতুহল। সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানাধরনের পর্যটন আকর্ষণ। এ বছর দুটি সূর্য গ্রহণ দেখবে বিশ্ব। সর্বশেষ ২০২২ সালের এপ্রিলের ২০ তারিখে সূর্য গ্রহণ দেখা গিয়েছিল। আগামী ২৫ অক্টোবর দেখা যাবে এ বছরের শেষ সূর্য গ্রহণ।

জানা গেছে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদ পরিভ্রমণের সময় একপর্যায়ে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে অবস্থান করে। এসময় চাঁদ ছায়া দিয়ে পৃথিবীকে ঢেকে ফেলে। সেই সঙ্গে তারা থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। সূর্যকে ঢেকে ফেলার উপর নির্ভর করে সাধারণত তিন ধরনের সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণ সর্বোচ্চ ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রতি প্রায় ১৮ মাস পর পর সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। তবে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ খুবই বিরল ঘটনা।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
যখন সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ একটি সমান্তরাল রেখার মধ্যে অবস্থান করে এবং চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে ফেলে এই ঘটনাকে বলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। তখন কিছু সময়ের জন্য আকাশ পুরোপুরি রাতের আকাশের মতো অন্ধকার হয়ে যায়।
বলয়গ্রাস গ্রহণ
যখন চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে না এবং সূর্যের বাহিরের অংশ বলয় অথবা আংটির মতো দেখা যায় এই অবস্থাকে বলয়গ্রাস গ্রহণ বলা হয়। এই গ্রহণ হওয়ার মূল কারণ হলো চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে থাকে এবং চাঁদকে তুলনামূলক ছোট দেখায়, তাই তা পুরো সূর্যকে ঢাকতে পারে না। সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণের মতই বলয়গ্রাসের সময়ও একটা ছায়া ফেলা পথ তৈরি হয়। এই পথের মধ্যে পৃথিবীর যেসব অঞ্চল, সেখান থেকে বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা যায়। আগামীতে ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর তারিখে সূর্যের বলয়গ্রাস গ্রহণ হবে। এটি উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু কিছু জায়গা থেকে দেখা যাবে।
মিশ্র গ্রহণ
যখন কোনো সূর্যগ্রহণ পূর্ণগ্রাস দিয়ে শুরু হয় এবং পৃথিবীর নিজ অবস্থান থেকে সরে যায় এই সময়কে মিশ্রগ্রহণ বা হাইব্রিড এক্লিপ্স বলা হয়। এটি খুবই বিরল ঘটনা বলে জানিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা আইএসি। সংস্থাটি বলছে, সব সূর্যগ্রহণের মাত্র ৪% হয় মিশ্র ধরনের। আগামী ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া আর পাপুয়া নিউ গিনি থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com