কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ, জেনে নিন ইতিহাস

কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ, জেনে নিন ইতিহাস

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের দিন স্মরণ করে প্রতিবছর জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়। কৃষ্ণকে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার বলে বিশ্বাস করা হয় এবং ভারতজুড়েই তার পূজা হয়।

এ বছর ১৮ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ১৯ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। গোকুল অষ্টমী হিসেবেও পরিচিত এই উৎসব কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে বা ভাদ্র মাসের অষ্টম দিনে উদযাপন করা হয়।

বর্তমান উত্তর প্রদেশের মথুরায় এক অন্ধকূপে জন্ম নেন ভগবান কৃষ্ণ। মধ্যরাতে তিনি রাজা বাসুদেবের স্ত্রী রানি দেবকির কোলজুড়ে আসেন। তাই রীতি অনুযায়ী, মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পূজা করা হয়।

কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ইতিহাস ও গুরুত্ব

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ভালোবাসা, সহানুভূতি ও কোমলতার দেবতা কৃষ্ণ। তিনি দুষ্টু ছলনা ও অসীম ক্ষমতা দিয়ে অলৌকিক ঘটনা ঘটনোর জন্যও পরিচিত।

এক ভবিষ্যদ্বাণীতে রানি দেবকির ভাই কংস জানতে পেরেছিলেন, তাকে ধ্বংস করার জন্য কৃষ্ণ জন্মেছেন। তাই তিনি কৃষ্ণকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই কৃষ্ণকে নিরাপদে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়। বাসুদেব একটি ঝুড়িতে করে সদ্যোজাত সন্তানকে মাথায় নিয়ে যমুনা নদী পাড়ি দেন এবং গোকুলে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে আসেন।

মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় অর্জুনের সারথি হিসেবে কৃষ্ণের ভূমিকা অনেক বেশি স্বীকৃত। তিনি ধর্মের প্রতি অর্জুনের আনুগত্য ধরে রেখেছিলেন।

ধর্মের পালনকর্তা ও অধর্মের বিনাশকারী হিসেবে জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণের জন্ম উদযাপন করা হয়।

উদযাপন ও আচার

ভোরের আগেই মন্দিরে মন্দিরে উৎসব শুরু হয়ে যায় এবং মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মের ক্ষণ পর্যন্ত নানা আচার-অনুষ্ঠান চলতে থাকে। ভক্তরা কীর্তন, ভজন ও নাম জপ আয়োজন করেন। অনেক ভক্ত শ্রীকৃষ্ণের প্রতিমা সাজিয়ে তোলেন। ধূপ জ্বালিয়ে গীতা পাঠ করা হয় এবং অনেকে সারা দিন উপবাস করেন। এই দিন নানা রকম সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়।

সাজানো হয় ঘরবাড়িও। বাড়িতে বাড়িতে থাকে বন্ধু ও স্বজনদের নিমন্ত্রণ। হরে কৃষ্ণ রব ওঠে চারদিকে।

জন্মাষ্টমীতে ভক্তরা মধ্যরাতে নিশিথ পূজা করেন। কৃষ্ণমূর্তির সামনে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় তার প্রিয় মাখন, দুধ ও দই।

কোথায় কোথাও দই হাঁড়িও আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা একজন আরেকজনের ওপর দাঁড়িয়ে মানব পিরামিড তৈরি করেন। যিনি পিরামিডের একদম ওপরে থাকেন, তিনি উঁচুতে বাঁধা মাখন-দইয়ে ভরা মাটির হাঁড়ি বাড়ি দিয়ে ফাটিয়ে ফেলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com