হৃদরোগ ও নিরাপদ ওষুধ সম্পর্কে যা বলছেন চিকিৎসকরা

হৃদরোগ ও নিরাপদ ওষুধ সম্পর্কে যা বলছেন চিকিৎসকরা
প্রতীকী ছবি

সমগ্র পৃথিবীতে যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন তার ৩২ ভাগই কার্ডিওভাসকুলার ডিসঅর্ডারের কারণে হয়। যেগুলো চাইলে সহজে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। হৃদরোগ ও এর ওষুধ সম্পর্কে জানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. চয়ন সিংহের কাছ থেকে।

হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের নির্ভরতা কতটুকু?

ড. চয়ন সিংহ : কার্ডিওভাসকুলার ডিসঅর্ডার একটি নিরব ঘাতক। এর পেছনে রয়েছে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। যেগুলো চাইলে সহজে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। যেমন, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডিমিয়া, ধুমপান ইত্যাদি।

কেউ যদি হার্ট অ্যাটাকের ওষুধ খেয়ে থাকেন। তাহলে পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকের পর যে জটিলতা তৈরি হয় বা হার্ট অ্যাটাকেরও যদি ঝুঁকিও থাকে সেগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারে। সুতরাং ওষুধের প্রাইমারি প্রিভেনশন এবং সেকেন্ডারি প্রিভেনশনের ভূমিকা রয়েছে।

হৃদরোগীদের যখন অন্য ওষুধ প্রেসকিপসন করা হয় তখন কী কী সচেতনতা অবলম্বন করতে বলেন?

ড. চয়ন সিংহ : প্রতিটি ড্রাগের উপকারিতা যেমন থাকে, তেমনি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে। যেমন, কেউ ব্যথার জন্য প্যারাসিটামাল খায় তখন ব্যথা উপশম হয়। কিন্তু সেই ব্যক্তির যদি হাইপারসেনসিভিটি থাকে তাহলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়ে থাকে। তেমনি হৃদরোগের একটি ওষুধের নাম ওয়ারফ্রেম। এটি রক্তকে পাতলা রাখে। যাদের পোসথেটিক হার্ট বাল্ব বসানো হয় তাদের এই ওষুধ সাজেস্ট করা হয়। পাশাপাশি একটি পিটি আয়নার টেস্ট রয়েছে সেই টেস্টের মাধ্যমে ওষুধের ইফিকেসি নির্ধারণ করা হয়। এটি নির্দিষ্ট সময় পর পর করা লাগে। এই টেস্টের ফলাফল ২-৩ এর মধ্যে থাকলে বোঝা যায় যে, ওষুধটি ভালো কাজ করছে। যখন এই ওষুধটি চিকিৎসরা হৃদরোগীদের দেন, তখন তারা রোগীকে ডায়েট ও পাশাপাশি কী কী টেস্ট করাতে হবে সেগুলো সাজেস্ট করে থাকে।

হৃদরোগের ওষুধ নিরাপদ এবং সঠিকভাবে সেবন করার জন্য ফার্মাসিটিক্যালস এর কোনো ভূমিকা রয়েছে কী?

ড. চয়ন সিংহ : হৃদরোগের ওষুধ নিরাপদ এবং সঠিকভাবে সেবন করার জন্য সবারই ভূমিকা রয়েছে। যেমন, চিকিৎসক, নার্স. ফিজিওথ্রাপিস্ট, ফার্মাসিস্ট। কোনো রোগী যখন প্রেসকিপশন নিয়ে ফার্মাসিস্টের দোকানে যান। তখন তারা অবশ্যই প্রত্যাশা করেন সেই রোগী যেন একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টের কাছে যায়। এক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে।

আর ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব হলো রোগীর কী কী লক্ষণ আছে, চিকিৎসক কোনো টেস্ট দিয়েছেন কিনা সেগুলো ভালোভাবে জানা। এরপর তাকে প্রেসকিপশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধ দেওয়া। কখন কীভাবে সেবন করবে, না করলে কি হবে এগুলো বলে দেওয়া। এতে করে রোগীরা বিশ্বাযোগ্যতা পান এবং ওষুধ সেবনের প্রতি সচেতন থাকেন।

বলা হয়ে থাকে ক্রনিক রোগের ওষুধের বাজার রমরমা। এক্ষেত্রে ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানির মুল টার্গেট হলো চিকিৎসকরা। এতে রোগীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হচ্ছে কিনা?

ড. চয়ন সিংহ : ক্রনিক রোগের ওষুধের বাজার রমরমা। এখানের রমরমার বদলে বলা যায় যে, এটি বাস্তবতা। ক্রনিক কিছু রোগ রয়েছে। যেমন, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডিমিয়া। এই রোগগুলো দীর্ঘস্থায়ী। এক দিনে যায় না। ফলে অনেক দিন ধরে ওষুধ খেতে হয়। অনেক কোম্পানি কম্বিনেশন ড্রাগ নিয়ে আসছে। বাইরের দেশের দিকে যদি লক্ষ করি যেমন, ভারত বা থাইল্যান্ড মাল্টিপাল ওষুধ কম্বিনেশন নিয়ে আসছে। ফলে পলি ফার্মেসী অ্যাভয়েড হচ্ছে। এতে করে রোগীদের কমপ্ল্যায়েন্স বাড়ছে এবং কস্ট ইফেকটিভ হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com