প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা বাড়ছে, তথ্য নিরাপত্তা বাড়ছে না

প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা বাড়ছে, তথ্য নিরাপত্তা বাড়ছে না
ছবি : সংগৃহীত

ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের সবখানে প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা বাড়ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে কাজকর্মও সহজ হচ্ছে। তবে অনেক সময় আমরা ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের তথ্য দিয়ে বিপদ ডেকে আনি যা অনিরাপদে ভোগায়। নেটওয়ার্ক হুমকি মোকাবিলা ও নিরাপদ সমাজ তৈরীতে সার্বিক প্রতিকার ও তার বাস্তবায়ন জরুরি। এসব বিষয়ের সার্বিক দিক নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ইওয়াইহোস্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন।

প্রযুক্তির সাথে আমরা আসলে কতটা সম্পৃক্ত হতে পেরেছি?

পৃথিবীতে ইন্টারনেটের সম্পৃক্ততা এখন কমন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশেও অনলাইনে সম্পৃক্ততা বেড়েছে। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা, পড়াশোনা এমনকি ব্যাংকে আর্থিক লেদদেন পর‌্যন্ত সবই এখন প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।

অনলাইনে কতটুকু তথ্য সমন্বয় করে উপস্থাপন করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমরা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে যেসব কনটেন্ট শেয়ার করি সেগুলো ভালো-মন্দ দুটোই হতে পারে। অনেক সময় সাংবাদিকদের মতো করেও ঘটনা উপস্থাপন করা হয়। আবার একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে নিজের ব্যবসাকে গ্লোবালি প্রেজেন্স করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের ভালো লাগা-মন্দ লাগা বিভিন্ন কনটেন্ট শেয়ার হয়। এগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হয় না। যা নিশ্চিত করা জরুরি।

সামাজিক মাধ্যমে আমরা আমাদের ছবি শেয়ার করি, অবস্থান দিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে নিজেদের কি অনিরাপদ করে তুলছি?

সামাজিক মাধ্যমে আমরা ব্যক্তিগত বিভিন্ন রকম ছবি শেয়ার করি। এগুলোতে অনেক তথ্য দেওয়া থাকে যা আমরা অনেক সময় জেনে দেই বা না জেনেও দেই। এক্ষেত্রে কারো শত্রু বা অপোজিশন থাকলে সহজেই শনাক্ত করতে পারে। এতে নিজেই নিজেকে অনিরাপদ করে ফেলা হয়।

হ্যাকিং থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকব?

যখন আমরা একটি ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে দেই। তখন সেই ছবিতে লোকেশন, কোন ফোন ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো দেখা যায়। এসব তথ্য হ্যাকাররা পেয়ে থাকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হ্যাকাররা তথ্য অনলাইন বা ইন্টারনেটে পাঠিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব তথ্য আমরা না বুঝেই দিয়ে থাকি এবং ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ওয়েবসাইট প্রেজেন্স করার সময় সহজ পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। আমদের রেলিটেড কারো সঙ্গে মিল রেখেও পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। এই প্রক্রিয়ায় পাসওয়ার্ড দিলে হ্যাকাররা সহজে সেই পাসওয়ার্ড ভেদ করে তথ্য নিয়ে নিতে পারে। এজন্য প্রত্যেকটি তথ্য সিকিউর করে তা ইন্টারনেট বা অনলাইনে ব্যবহার করতে হবে।

ব্যবসা বা চাকরির জন্য আমরা সিভির মাধ্যমে অনেক তথ্যই দিয়ে দিচ্ছি সেক্ষেত্রে করণীয় কী?

চাকরি খোঁজা থেকে শুরু করে চাকরি কন্টিনিউ করা পর্যন্ত জীবনবৃত্তান্ত বা সিভির মাধ্যমে আমরা তথ্য দিয়ে থাকি। যেমন- বিডি জবসে সিভি দিলে বুঝতে হবে যে তারা সিভিতে কী চাচ্ছে, তাদের পলিসি কী? আসলে আমরা তাদের প্রাইভেসি-পলিসি পড়েই দেখি না যে তারা কী বলছে। অথবা একটি কোম্পানি জনবল নিয়োগ দেবে। এজন্য বিডি জবসে একটি সার্কুলার দিল। সেখানে ৫০০ প্রার্থী আবেদন করল। এই ৫০০ জনের তথ্য নিয়ে হ্যাক করা সম্ভব। এজন্য আামাদের সিকিউরিটি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে যে কারা ওয়েবসাইট বানাবে, কী কী কনটেন্ট যাবে ইত্যাদি বিষয়ে মনিটোরিং করা জরুরি। সর্বোপরি নিজেকে এবং জাতীয় পর‌্যায়ে সিকিউরিটি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com