কর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম ডিজিটাল মার্কেটিং

কর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম ডিজিটাল মার্কেটিং
প্রতীকী ছবি

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছে। অনলাইনেই এখন নিজের পছন্দ মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করতে শুরু করেছে। ফলে জমে উঠেছে ডিজিটাল মার্কেটিং। এতে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিজকোপ ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান।

করোনার আগে যে মার্কেটিং ছিল, পরবর্তীতে সেটি আরও সক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং-এ পরিবর্তন হওয়ার প্রক্রিয়াটি কী?

নাহিদ হাসান : পুরো পৃথিবীতে মার্কেটিং এর যে ট্র্যাডিশন ছিল সেটি পরিবর্তন হচ্ছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। করোনাভাইরাসের (কোভিড) আগে যেমন এটি ধীরগতি সম্পন্ন ছিল, করোনাকালীন সেটির গতি বেড়ে যায়। কারণ তখন মানুষ বাইরে খুব বেশি কেনাকাটা করতে পারেনি। এ সময়ে প্রত্যেকটা বিজনেস, প্রত্যেকটা ব্রান্ড যে সিচুয়াসন ডিমান্ড করেছে সেটি অনেক বড় আকারের। যে পরিবর্তনটা ৮-৯ বছরে হতো সেটি এক বছরে হয়েছে। এজন্য বিজনেজ প্রকিষ্ঠানগুলো সেভাবে মার্কেটিং পরিকল্পনাগুলো সাজাচ্ছে। কারণ ভোক্তারা ই-কমার্সসহ অন্য ডিজিটাল চ্যানেলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কোভিডে ব্যবসায় কীভাবে প্রভাব ফেলেছে?

নাহিদ হাসান : পৃথিবীর প্রায় বেশিরভাগ বিজনেজে কোভিড নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে কিছু কিছু বিজনেজ কোভিড থেকে উপকৃত হয়েছে। অ্যাভিয়েশন ইন্ড্রাটিজ ও ট্যুরিজম ইন্ড্রাটিজের মতো বিজনেজগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে ডিজিটাল টুলস নির্ভর যে বিজনেজগুলো ছিল যেমন জুম অ্যাপস বেশি ব্যবহার হয়েছে যা করোনার আগে ততোবেশি ব্যবহার হতো না। মানুষ কানেকটেড ছিল না। এজন্য যেসব বিজনেজ প্রতিষ্ঠান কোভিডে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে তারা অনুধাবন করতে পেরেছে যে, এখন ডিজিটাল মেকানিজম নির্ভর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী করতে হবে। এটি শুধু মার্কেটিং এর জন্য নয়, তাদের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট, অভ্যন্তরীণ ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদির জন্য থাকা দরকার।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি বড় প্ল্যাটফর্ম সামাজিক মাধ্যম। একজন উদ্যোক্তা এটি কীভাবে ব্যবহার করলে মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারবে?

নাহিদ হাসান : বিগ ব্র্যান্ডের চেয়ে বেশি লাভবান হয় ছোট ও মিডিয়াম বিজনেজ প্রতিষ্ঠানগুলো। কেননা বিগ ব্র্যান্ডের অনেক বাজার থাকে। মার্কেটিং এর অন্য চ্যানেলগুলোকে তারা অ্যাডাপ্ট করতে পারে, ডোমিনেন্ট করতে পারে। কারণ তাদের বাজেট থাকে। কিন্তু ছোট ও মিডিয়াম বিজনেজগুলো চাইলে একটি বিলবোর্ডে বা পত্রিকায় নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিতে পারে না। কারণ এগুলো ব্যয়বহুল। ফলে তারা সামাজিক মাধ্যমসহ অন্য মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে তারা তাদের মার্কেটিং ম্যাসেজগুলো দিয়ে টার্গেটে পৌঁছতে পারছে। এর মাধ্যমে বিগ ব্র্যান্ড এবং ছোট বা মিডিয়াম বিজনেজগুলোর মধ্যে যে গ্যাপ ছিল সেটি কমিয়ে দিয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য বা কোনো প্রশিক্ষণ বা অন্য কোনো পন্থা রয়েছে?

নাহিদ হাসান : ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট রয়েছে যেখান থেকে ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি অনেক সাকসেসফুল কোম্পানি কনটেন্ট তৈরি করে। সেই কনটেন্ট থেকে নিউ কামাররা শিখতে পারে। ইউটিউব থেকে বা অনেক আইটি কোম্পানি রয়েছে যেগুলোা থেকে ধারনা পাওয়া যায়। এছাড়া গ্লোবালি বা দেশে অনেক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে যেগুলোতে সরকারও সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে সেগুলো থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে শেখা যায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর চ্যালেঞ্জগুলো আগের মতো আছে নাকি বাড়ছে?

নাহিদ হাসান : চ্যালেঞ্জগুলো দিন দিন বাড়ছে। প্রত্যেকটা ব্র্যান্ড এখন আর ডিজিটাল মার্কেটিংকে অপশনাল ভাবছে না। এটি এমন নয় যে ট্রাডিশনাল মার্কেটকে সম্পূর্ণ রিপ্লেস করবে। এটি একটি বাড়তি প্ল্যাটফর্ম। এটির মাধ্যমে মানুষ কেনাকাটায় অভ্যস্ত হচ্ছে, গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এর মাধ্যমে অনেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর স্কিলগুলো সম্পর্কে জানছে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরী হচ্ছে।

কেউ যদি ডিজিটাল মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে তার জন্য কি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে?

নাহিদ হাসান : অবশ্যই সঠিক এবং ভালো সিদ্ধান্ত হবে। গ্লোবাল ই-কমার্সের মার্কেট বড় হচ্ছে। আমরা যেসব মুভি দেখি সেগুলোতে অনেক গ্রাফিক্স ডিজাইন থাকে। যত মুভি তৈরী হবে নতুন নতুন ডিজাইনের চাহিদা তৈরী হবে ততই গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজের ডিমান্ড বাড়বে। একই সঙ্গে যত বশি ই-কমার্স ব্র্যান্ড তৈরী হবে ততবেশি ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভর করবে। যত বেশি বিঞ্জাপন হবে তত বেশি মার্কেটার তৈরী হবে। যত বেশি মার্কেটার হবে ততবেশি কনেটেন্ট তৈরী হবে, রাইটার তৈরী হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com