বিএনপির ‘নেতৃত্ব সংকট’ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া

বিএনপির ‘নেতৃত্ব সংকট’ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাংলাদেশের দুটি অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এই দল দুটির আলোচনা-সমালোচনা হয় গ্রামে, শহরে, যানবাহনে এমনকি চায়ের দোকানেও। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সর্বশেষ ক্ষমতায় ছিল ২০০১ সালে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সর্বশেষ ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসে এবং এখনো বিদ্যমান। সবমিলিয়ে স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগ।

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তবে ২০১৮ সালে অংশ নিলেও ৭টির বেশি আসনে জয় লাভ করতে পারেনি দলটি। এখন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা সেটি অনেকের কাছে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও গত কয়েক বছর থেকে খোদ বিএনপির পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না তারা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপির এখন নেতৃত্ব সংকট রয়েছে। কারণ দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দণ্ডিত মামলার আসামি। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও মামলা আছে এবং তিনিও পলাতক। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী কে হবে বা নেতৃত্বে আসবে কে?। তারা বলছে, সাংবিধানিক নিয়মেই ও সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিগত ১২-১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবি ও আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি এবং ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিএনপি। পাশাপাশি এখনো তাদের মোমেন্ট টাইমও আসেনি। এজন্য অনেকে প্রশ্ন করেন, দলটির এখন আর মোমেন্ট টাইম আনার সক্ষমতা নাই। আসলে কি তাই?

এ প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, মোমেন্ট টাইম একদিনের বিষয় না। এটি দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়া এবং দলের কৌশলগত অভ্যন্তরীণ বিষয়। আর যারা এসব কথা বলেন তাদের আসলে কোনো গ্রাউন্ড নেই।

দলটির অভিযোগ, ২০১৮ সালেই দলটির আসামী ১০-১২ লাখ। মামলা লাখের উপরে। তারা মনে করেন, এরপরেও বিএনপি বেঁচে আছে। একটি কর্মীও দল ছাড়েনি।

বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। এই দাবি কতটুকু পুরণ হবে বলে তাদের বিশ্বাস? বিএনপি নেতা ইজাজ মনে করেন, তাদের ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং ২০১৮ সালে অংশ নেওয়া দুই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, বিএনপি নির্বাচনে গেলেও যা, না গেলেও তা। তিনি বিশ্বাস করেন, এরশাদ সরকার পতনে যেমন প্রথমে দলীয় কর্মীরা আগে নেমেছিল এবং পরে জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছিল সেরকম এখন বিএনপি আগে সরকারের পতন ঘটাবে তারপর জনগণ সম্পৃক্ত হবে।

যদি এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ বিএনপির এই পরিস্থিতিতে থাকতো তাহলে কি তারা নির্বাচনে যেত? এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্বাচনবিমুখ ছিল না। জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের সময় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়। এরশাদের শাসনের সময়ও অংশ নেয়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি ছাড়া সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে হয়ে নির্বাচনে গিয়েছিল। সেসময় আওয়ামী লীগ জনণকে সম্পৃক্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবি আদায় করে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপিকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সুতরাং আওয়ামী লীগ সবসময় চায় একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে যেতে।

মোট কথা, বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে নাকি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে তা সময়ই বলে দেবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com