জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের উজ্জ্বল অংশীদার বাংলাদেশ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের উজ্জ্বল অংশীদার বাংলাদেশ
পুরোনো ছবি

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কর্মরত থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও। বর্তমান বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী একটি পরিচিত ও আস্থার প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্যোগময় পরিবেশে শান্তি স্থাপন করে অনেক অচেনা মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে বছরের পর বছর ধরে সফলতার ছাপ রাখছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। কী কী অনুষঙ্গের কারণে এসব সফলতা সম্ভব হচ্ছে তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে।

অনুষঙ্গগুলোর মধ্যে রয়েছে- সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা, পেশাদারিত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, সাহসিকতা, শৃঙ্খলাবোধ ও দেশপ্রেম। পেশাদারিত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি পেশাদার বাহিনী এবং তা বিশ্বমানের হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সিনিয়র কর্মকর্তারা সেনাসদস্যদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন যা সেনাবাহিনীর দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী এবং বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করছে। আর এ কারণে গত ৩৫ বছরে বিশ্ব শান্তি অর্জনে আমরা শীর্ষে অবস্থান করছি।

সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের দুটো মূল ভাগ। একটি হলো মৌলিক প্রশিক্ষণ আরেকটি হলো মিশন স্পেসিফিক প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রদান করা হয়। যে দেশে মিশন পরিচালনা করা হয় সেই দেশের পরিবেশ, আচরন ও সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার সুনিপুণ প্রশিক্ষণ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তৈরি করা হয়। ফলে তারা অন্য দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে এবং সেখানে গিয়ে স্ট্যান্ডার্ড প্রদর্শন করে কাজগুলো পরিচালনা করছে।

এগুলো ছাড়াও আরও উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাপার হলো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণেও আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। পাশাপাশি রয়েছে আমাদের অতিথিপরায়ণ, বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব যেটিকে বলা হয়- winnig the heart and minds of the local people। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শৃংঙ্খলার ব্যাপারে জাতিসংঘ জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করে যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রাক অন্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো। এসব সার্বিক কারণে বছরের পর বছর ধরে এবং বর্তমানে সর্বোচ্চ কন্ট্রিবিউটিং দেশ হিসেবে আসন দখল করে আছি।

বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৮৮ সালে। সেই থেকে এখন অবধি শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। ভবিষ্যতে যেসব প্রতিকূলতা বা চালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো মোকাবিলা করে আরও এগিয়ে যাক এবং বিশ্বের অন্য দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখুক।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com