অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধ করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ

অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধ করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো বন্ধ করার চেষ্টা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু তা সেরকমভাবে কার্যকর ছিল না। অনুমতি ছাড়াই চলছিল হাজারো হাসপাতাল ও ক্লিনিক। অবশেষে এবার হঠাৎ ‘ঘুম ভেঙ্গেছে’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। উদ্যোগ নিয়েছে অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো বন্ধ করার। ইতিমধ্যে বিশেষ অভিযানে ৮৮২টি বেসরকারি ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধ করেছে। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

লক্ষ্য করা যায়, দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অবৈধ ও অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিক। যেখানে ডাক্তারের সার্টিফিকেট ছাড়া কিংবা কোনো প্রাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। এর ফলে অনেকেই অপচিকিৎসার শিকার হয় এবং কারো কারো ক্ষেত্রে সারা জীবনের দুর্ঘটনার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

এর নেপথ্যে রয়েছে একটি অসাধু চক্র। তারা সংঘবদ্ধ থাকে। তাদেরকে একটি ভয়ের মধ্যে না নিয়ে আসলে ধরা খুব কঠিন। একটা একটা করে ধরলে অন্যরা সাবধান হয়ে যাতে পালিয়ে যেতে পারে সেজন্য সারা দেশে একযোগে একটি সিস্টেমওয়াইজ অভিযান পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একটি শক্ত মেসেজ দিয়ে তারা এগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে অনিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর তালিকা হাতে চলে আসবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রায় ১২ হাজারের মতো অবৈধ ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিক রয়েছে। পাশাপাশি ১১ কিংবা ১২ হাজারের মতো নিবন্ধিত রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮৮২টি অবৈধ ও অনিবন্ধিত ডায়াগনোসিস সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধ করেছে। বাকিগুলোও শিগগিরই বন্ধ করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে দেশের মানুষ।

এছাড়া নিবন্ধিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতেও যাতে স্বাস্থ্যসেবার মিনিমাম সরঞ্জাম ও চিকিৎসক থাকে সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিবন্ধিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোকেও কীভাবে শুদ্ধাচারের মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেভাবে কঠোর অবস্থানে যাওয়া দরকার স্বাস্থ্য বিভাগের। যাতে একবার বন্ধ করে দিলে আইনের কোনো আশ্রয় নিয়ে আর খুলতে না পারে। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে স্বাস্থ্য খাতে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে এবং মানুষজন চিকিৎসার জন্য একটি আস্থার জায়গা পাবে ও তাদের মধ্যে স্বস্থি ফিরে আসবে।

অনিবন্ধিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে যখন একটি দুর্ঘটনা ঘটে তখনি কেবল গণমাধ্যম বা অন্য কোনোভাবে সেটি জানাজানি হয় যে, এই হাসপাতাল অনিবন্ধিত, এই ক্লিনিক অনিবন্ধিত। এর আগে কিন্তু সেটি জানা সম্ভব হয় না। যেহেতু অবৈধ ও অনিবন্ধিত সেগুলোকে বন্ধ করার জন্য কোনো আইনগত জটিলতা নেই। তাহলে আগে কেন জানা সম্ভব হয় না বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না যে, কোন হাসপাতাল বা ডায়াগনোসিস সেন্টার বা ক্লিনিক অনিবন্ধিত? এটির উত্তর হয়তো কর্তৃপক্ষের ভালো জানা থাকবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com