ঘুরতে গেলে থাকতে হবে

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ভ্রমণের জন্য উত্তম সময় এখনই। কেউ ভালোবাসেন সাগর আবার কেউ পছন্দ করেন পাহাড়। পাহাড়ি ঝরনাধারা, সাগরের নীল জলরাশির কলকল শব্দ, গ্রামীণ জনপদ, প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব কী নেই আমাদের এ দেশে। নৈসর্গিক দৃশ্য আর পাহাড়ি জলপ্রপাতের দৃশ্যমান সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণপিপাসুরা আসেন প্রকৃতির খুব কাছে। সেসব প্রকৃতিপ্রেমীর জন্যই থাকছে ৯টি হোটেল এবং রিসোর্ট নিয়েই আয়োজন

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ। ছবি : সংগৃহীত
গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ। ছবি : সংগৃহীত

শ্রীমঙ্গলের ‘গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ’

সিলেট বিভাগের প্রথম পাঁচ তারকা মানের বিলাসবহুল রিসোর্ট। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আছে কিং ডিলাক্স, কুইন ডিলাক্স, ট্রিপল ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ স্যুট কিং, এক্সিকিউটিভ স্যুট কুইন, রয়্যাল স্যুট ডিলাক্স, রয়াল স্যুট সুপেরিয়র, প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটসহ ১৩৫টি কক্ষের ভাড়া স্যুট হিসেবে ২৪ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা। এখন চলছে শীতকালীন অফার এবং চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শীতকালীন প্যাকেজে রুম ভাড়ার ওপর থাকছে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা। অতিথিদের জন্য রয়েছে পাঁচটি ডাইনিং রেস্তোরাঁ, জিম, স্পা, লাইব্রেরি এবং বিনোদনের জন্য ছোট সিনেমা হল। এ ছাড়া স্পোর্টস কোর্ট, বিলিয়ার্ড ও খেলার মাঠ আর আছে আউটডোর পুল ও ৯-হোল বিশিষ্ট গলফ কোর্সের সুবিধা।

মমো ইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
মমো ইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার ‘মমো ইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’

বগুড়া রেলস্টেশন ও মহাস্থানগড় পুরাতাত্ত্বিক জাদুঘর থেকে ৭ কিমি এবং গোকুল-মেধ ধ্বংসস্তূপ থেকে ৫ কিমি দূরে হ্রদের তীরে শান্ত পরিবেশে রয়েছে পাঁচ তারকা মানের বিলাসবহুল এ রিসোর্ট। রয়েছে রুচিসম্মত ও আভিজাত্যের মিশেলে সজ্জিত রুমে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের সুবিধা, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি এবং আলাদা বসার জায়গা। থাকার ছয়টি ভিন্ন স্যুটের সঙ্গে আছে ডাইনিং টেবিল ও লিভিং স্পেস। আরও রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং ইভেন্টের জন্য আলাদা জায়গা, জিম, হট-টাব, দুটি আউটডোর পুল, গাছপালায় ঘেরা বাগান, মিনি সিনেমা ও হেলিপ্যাডসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

সিটি ইন হোটেল। ছবি : সংগৃহীত
সিটি ইন হোটেল। ছবি : সংগৃহীত

খুলনার ‘সিটি ইন হোটেল’

খুলনার প্রত্নতত্ত্ব প্রদর্শনী জাদুঘর থেকে এক মিনিট এবং খুলনা রেলস্টেশন থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেল ‘সিটি ইন লিমিটেড’। মেঝেতে ঝকঝকে টাইল এবং কাঠের আসবাবসহ আরও রয়েছে সুসজ্জিত রুম এবং স্যুটগুলোতে স্যাটেলাইট টিভি ও মিনি ফ্রিজ। রয়েছে ২৪ ঘণ্টা রুম সার্ভিস, বুফে ব্রেকফাস্ট এবং পার্কিং ব্যবস্থা। এখানের আছে রেস্তোরাঁ, স্ন্যাক বার, পুল, হট-টাব, প্রার্থনার স্থান ও জিম। বিনোদনের জন্য বিলিয়ার্ড টেবিলসহ সুপরিসর লাউঞ্জ এবং মিটিং বা ইভেন্টের আলাদা স্থান রয়েছে। এখান থেকে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা সমুদ্রবন্দর, সনেট কবি মাইকেল মধুসূধন দত্তের জন্মস্থান—সাগরদাঁড়ি ঘুরে দেখতে পারেন।

কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর ‘কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্ট’

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে হাঁটা পথে পাতাঝরা এলাকায় রয়েছে পাঁচ তারকা মানের এ রিসোর্ট। এখান থেকে প্রশস্ত বালুকাময় সমুদ্রসৈকতে দেখতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। রিসোর্টে রয়েছে উন্নতসেবা, আধুনিক পরিসরে সজ্জিত হোটেলটিতে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা। রিসোর্টিতে স্ট্যান্ডার্ড ডিলাক্স, ডিলাক্স, প্রিমিয়াম ডিলাক্স, টুইন ডিলাক্স, ফ্যামিলি স্যুট, এক্সিকিউটিভ স্যুট, প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের সঙ্গে ওয়ার্লপুল বাথসহ উজ্জ্বল আলোয় সজ্জিত কক্ষগুলোতে আছে ফ্রি ওয়াই-ফাই, ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টিভি ও মিনি ফ্রিজ। মার্জিত সাজসজ্জায় সাজানো বসার জায়গার সঙ্গে বিশাল ডাইনিং স্পেস সংবলিত রেস্তোরাঁ, হট-টবসহ একটি রয়েছে আউটডোর পুল, জিম, টেনিস কোর্ট এবং বাচ্চাদের খেলার জায়গা। আর আছে একটি হেলিপ্যাড।

স্যান্ড ক্যাসেল বিচ রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
স্যান্ড ক্যাসেল বিচ রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ‘স্যান্ড ক্যাসেল বিচ রিসোর্ট’

সেন্টমার্টিন দ্বীপে রয়েছে অনেক হোটেল ও রিসোর্ট। ‘স্যান্ড ক্যাসেল বিচ রিসোর্ট’ তেমনি একটি রিসোর্ট। এখানে রয়েছে সুপরিসর হানিমুন ক্যাসেল স্যুট, প্রিমিয়ার ক্যাসেল স্যুট, এক্সিকিউটিভ ক্যাসেল স্যুট-এ, এক্সিকিউটিভ ক্যাসেল স্যুট-বি, লাক্সারি ফ্যামিলি স্যুট-এ, লাক্সারি ফ্যামিলি স্যুট-বি, ক্যাসেল স্যুট। কমপ্লিমেন্টারি ফ্রি বুফে ব্রেকফাস্ট, রেস্তোরাঁয় টেবিল সার্ভিসের সুবিধা আছে। সৈকতের পাশে হওয়ার সুবাদে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, ওয়াটারক্রাফটিং, ওয়াটার স্কিইংয়েরও ব্যবস্থা। ঘোরার জন্য বাইসাইকেল ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা, টেনিস খেলার ব্যবস্থা, অন-কল ডাক্তার পাওয়ার সুবিধা আছে এখানে। পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে কাজ করার জন্য এ হোটেলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রয়েল বিচ রিসোর্টের আছে রুফটপ বারবিকিউ স্পেস। ছবি : সংগৃহীত
রয়েল বিচ রিসোর্টের আছে রুফটপ বারবিকিউ স্পেস। ছবি : সংগৃহীত

‘রয়েল বিচ রিসোর্ট’ কক্সবাজার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন তারকা মানের এবং লোকাল হোটেল ও রিসোর্ট। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং নিরিবিলি পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য বেশ সুনাম অর্জন করেছে ‘রয়েল বিচ রিসোর্ট’। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল এ তিন তারকা মানের হোটেলে রয়েছে একটি ইনডোর রেস্তোরাঁ, কফিশপ, রুফটপ বারবিকিউ স্পেস। ভূগর্ভস্থ পার্কিং ব্যবস্থাসহ নিজস্ব গাড়িতে এয়ারপোর্ট থেকে অতিথিদের পিক অ্যান্ড ড্রপ সার্ভিসের সুবিধা। ৯৮টি রুমে রয়েছে ডিলাক্স, রয়েল, ফ্যামিলি এবং ভিআইপি স্যুট। গেস্টদের জন্য সবসময় কোনো না কোনো প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

সেন্ট্রাল রিসোর্ট লিমিটেড। ছবি : সংগৃহীত
সেন্ট্রাল রিসোর্ট লিমিটেড। ছবি : সংগৃহীত

টেকনাফের ‘সেন্ট্রাল রিসোর্ট লিমিটেড’

মূল ভূখণ্ডের শেষ সীমান্তে গড়ে উঠেছে তিন তারকা মানের এ রিসোর্ট। এখানে রয়েছে দুটি সুপিরিয়র স্যুট, চারটি লাক্সারি স্যুট, দুটি ডিলাক্স, দুই রুমবিশিষ্ট তিনটি কটেজ এবং দুটি ইকোনমি রুমসহ ১৬টি রুম। নান্দনিক শৈলীতে সজ্জিত প্রতিটি কক্ষ আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা বিদ্যমান। রয়েছে ফ্রি চা-কফিসহ ওয়াই-ফাই সঙ্গে জিম, সুইমিং পুলের ব্যবস্থা। নিজস্ব বাগান, পার্কিং সুবিধাসহ শিশুদের জন্য খেলার মাঠ এবং টপ ফ্লোরের রেস্তোরাঁয় বসে দেখা যায় সমুদ্র ও পাহাড়ের দৃশ্য। বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ, কুমারী সমুদ্রসৈকত, নাফ নদ, সেন্টমার্টিন এবং মিয়ানমার ভ্রমণকারীদের জন্য নাফ নদে এক কিমি জেটি, টেকনাফ বিষ্ণুমন্দির, বৌদ্ধবিহার, রেইন ফরেস্টে পাহাড় ট্র্যাকিং, মাথিন হেরিটেজ, বার্মিজ মার্কেট, শাহপরী দ্বীপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ এখান থেকেই বেরিয়ে আসতে পারেন।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ফানুস রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ফানুস রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

‘ফানুস রিসোর্ট’ বান্দরবান

বান্দরবানের পাহাড়ি নিরিবিলি পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ‘ফানুস রিসোর্ট’টি একটি আদর্শ রিসোর্ট। ‘আমরা শ্রেষ্ঠ নই তবে আমরা একটু আলাদা’ মোটো নিয়ে প্রতিষ্ঠিত রিসোর্টের রুমগুলো কটেজ টাইপের। রুমগুলোকে এসি কাপল রুম এবং নন-এসি কাপল রুমে ভাগ করা হয়েছে। পাহাড়ি লেকের পাশে সম্পূর্ণ গ্রামীণ এবং পাহাড়ি আবহের মিশেলে তৈরি এ রিসোর্টে আছে ২৪ ঘণ্টা ফ্রন্টডেস্ক সার্ভিস, বাংলা রেস্তোরাঁ। রিসোর্টের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের প্যাকেজের মাধ্যমে দেখতে পারবেন নীলগিরি পাহাড়, ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট, চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত, মিলনছড়ি জলপ্রপাত, প্রান্তিক লেক, রুপালি ঝরনা, মেঘলা পাহাড়, নীলাচল পাহাড়। এ ছাড়া নিতে পারেন এবং উপজাতীয় গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতা।

দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ। ছবি : সংগৃহীত
দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ। ছবি : সংগৃহীত

‘দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ’ রাঙামাটি

রাঙামাটিতে দৃষ্টিনন্দন রিসোর্টের বিচারে এগিয়ে আছে ‘দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ’। রিসোর্টে রয়েছে সুপরিসর বিশ্রামাগার, হোটেল লাউঞ্জ, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ। লেকের মাঝখানে রিসোর্টির অবস্থান হওয়ায় পাবেন দ্বীপে থাকার আবহ। এখানে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্টের সঙ্গে রয়েছে ট্র্যাডিশনাল এবং বাংলা খাবারের সুব্যবস্থা। যারা ফটোগ্রাফি করতে ও বোটে ঘুরতে ভালোবাসেন তাদের জন্য উপযুক্ত এ রিসোর্টটি। এখানকার রুমগুলোকে টুইন এসিরুম, টুইন নন-এসিরুম, ডিলাক্স কাপল নন-এসিরুম, ডিলাক্স কাপল এসিরুমে ভাগ করা হয়েছে। রবি থেকে বৃহস্পতিবার ৫০ শতাংশ ছাড় এবং শুক্র ও শনিবার ৪০ শতাংশ ডিসকাউন্ট অফারটি থাকবে পুরো শীতকালে। এখান থেকে জুম পাহাড়, শুভলং ঝরনা, ছোট ঝরনা, রাজবিহারসহ রাঙামাটির প্রায় ৮০ শতাংশ স্পট ঘুরতে পারবেন বোটে করেই। রিসোর্টের রয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় সারা দিনের জন্য নিজস্ব বোট সার্ভিস।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com