মোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোধে ১০টি কার্যকরী পরামর্শ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোধে ১০টি কার্যকরী পরামর্শ
ছবি: প্রতীকী

স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের বিকল্প নেই। তবে সঠিক ব্যবহার না জানলে, মোটরসাইকেল ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে জীবনের অভিশাপ। কারণ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যতম কারণ অনিরাপদ মোটরসাইকেল ভ্রমণ।

২০১৬ সালের এক গবেষণার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ২৮ শতাংশই ঘটে থাকে এই মোটরসাইকেলের মাধ্যমে। মৃতের সংখ্যার চেয়ে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

চলুন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোধের ১০টি কার্যকরী পরামর্শ জেনে নিই-

সবসময় হেলমেট পরুন

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট আপনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। একটি কার্যকরী হেলমেট আপনার মাথাকে সুরক্ষা দিতে পারে। তা ছাড়া মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে আপনার মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে; কিন্তু হেলমেট থাকলে আপনি অনেকাংশে ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন। তবে অবশ্যই আপনাকে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।

সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করুন

হেলমেট ছাড়া আরও কিছু সুরক্ষাসামগ্রী আছে, যা আপনাকে দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করবে। মোটরসাইকেল ব্যবহারের সময় চামড়া বা সিনথেটিক প্যান্ট ব্যবহার করুন। এ ছাড়া গ্লাভস ও বুট জুতা ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণ এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অনেকাংশেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

গতিসীমা মেনে চলুন

অতিরিক্ত গতির কারণে বেশিরভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এ বাহন চালানোর সময় অবশ্যই গতিসীমা মেনে চলতে হবে।

কারণ অতিরিক্ত গতির কারণে চালক মোটরসাইকেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। গতি যত বেশি হবে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বাড়বে। যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, নির্ধারিত গতিসীমা মেনেই মোটরসাইকেল চালাতে হবে।

আশপাশে খেয়াল রাখুন

চোখের পলকে আপনার মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। কারণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। আপনার আশপাশেই দেখুন। কেউ হয়তো আপনাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিতে পারে। অথবা রাস্তায় কোনো বাঁক বা স্পিড ব্রেকার ছিল, যা আপনি খেয়ালই করেননি। আবার অনেক সময় ভেজা রাস্তায় চাকা পিছলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা পড়তে পারেন। তাই আশপাশে তীক্ষ্ণ নজর রাখুন।

টার্নিং সিগন্যাল ব্যবহার করুন  

এ সিগন্যালের মাধ্যমে আপনি আশপাশের চালকদের জানাচ্ছেন যে, আপনি কোনদিকে যাবেন। সংকেত অনুযায়ী অন্যান্য চালক আপনাকে অতিক্রম করবে; কিন্তু আপনি কোন দিকে যাবেন, তার সংকতে না দিলে পেছনে থাকা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারে। তাই সঠিক নিয়মে টার্নিং সিগন্যাল বা ইন্ডিকেটর লাইট ব্যবহার করতে হবে।

দৃশ্যমান থাকুন

রাস্তায় চলাচলের সময় অন্য চালকদের কাছে নিজেকে দৃশ্যমান রাখুন। উজ্জ্বল রঙের কাপড় বা কোনো প্রতিফলনকারী উপাদানের মাধ্যমে, বিশেষ করে রাতেরবেলায় নিজেকে দৃশ্যমান রাখুন।

চালনায় মনোযোগ দিন

রাস্তায় চলাচলের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে মুঠোফোনে কল এলে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে উদ্বিগ্ন হওয়া যাবে না। অথবা রাস্তার পাশে থাকা অন্যকিছুতে মনোনিবেশ করা যাবে না। কারণ ক্ষাণিকের অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

নিয়মিত মোটরসাইকেল চালনার অভ্যাসগুলো চর্চা করুন   

ফাঁকা রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানোর উত্তেজনাটাই যেন ভিন্ন! চালকের মনের ভেতরে চলে আসে এক ধরনে বুনো শিহরন। তবে আপনি যদি মোটরসাইকেল চালানোর দক্ষ না হন, তাহলে আগে শিখে নিন পরে সড়কে নামুন।

কিছুটা শেখা হয়ে গেলেই থেমে যাবেন না, প্রতিনিয়ত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। জানতে হবে গতি নিয়ন্ত্রণের নিখুঁত উপায়। আর এতে যতটা দক্ষ হবেন, দুর্ঘটনায় পড়ার প্রবণতা ততটাই কমবে।

নিয়মিত মোটরসাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণ করুন

অনেক সময় দুর্ঘটনা এড়ানোর কোনো উপায় থাকে না। তবে এর প্রভাব কিছুটা কমিয়ে আনা যায়। আপনার মোটরসাইকেলটি যদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাহলে আপনিও অনেকটা সহজেই ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন।

মোটরসাইকেলের ব্রেক নিয়মিত পরীক্ষা করুন, ইঞ্জিন অয়েলের লেভেল মেপে দেখুন, সিগন্যাল লাইট কাজ করছে কি-না, ঠিকমতো ইঞ্জিন চালু হচ্ছে কি-না, এসব নিয়মিত খেয়াল করুন।

মদ্যপ অবস্থায় চালানো থেকে বিরত থাকুন

অনেকেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল চালিয়ে থাকেন। এ ধরনের চালনাকে ড্রাঙ্ক ড্রাইভিং বলা হয়।

মনে রাখবেন, কোনো অবস্থাতেই মদ্যপ হয়ে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। এমনকি যদি আপনার চোখে ঘুম ঘুম ভাব থাকে, তাহলেও না। মোটরসাইকেল চালানোর সময় আপনাকে সজাগ ও সচেতন অবস্থায় থাকতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com