সকালের নাশতা কতটা জরুরি

সকালের নাশতা কতটা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

রাতের খাবারের পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা হয়। সেই উপোস ভাঙা হয় সকালের নাশতা করে।

উনিশ শতকের শেষের দিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে ব্রেকফাস্টের ধারণা বেশ প্রচলিত হয়ে ওঠে। ওই সময় মনে করা হতো, সারা দিন ফিট থাকতে সকালে নাশতা খুব কার্যকর। যদিও বর্তমানে ১৫ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক সকালে না খেয়েই দিন শুরু করেন।

এখনো মনে করা হয়, সকালের খাবার একজন ব্যক্তির সারা দিনের কাজের শক্তি জোগান দেয়। আসলেই কি সকালের নাশতা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ!

সকালের খাবার আসলে কতটা প্রয়োজনীয় বা এটা দিনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ কিনা, তা নিয়ে গবেষকদের মতভেদ রয়েছে। কারওও মতে, দিনের শুরুতে খাদ্য গ্রহণের ফলে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। ফলে সারা দিন শরীর থাকে শক্তিতে ভরা।

আরেক দলের দাবি, কোনো ব্যক্তি যদি সারা দিনের অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে তার পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারে, তবে সকালের খাবার গ্রহণ আবশ্যক নয়।

যারা প্রতিদিন সকালের খাবার খান, তাদের হৃদরোগ বা ডায়বেটিসজনিত সমস্যা কম হয়।
যারা প্রতিদিন সকালের খাবার খান, তাদের হৃদরোগ বা ডায়বেটিসজনিত সমস্যা কম হয়।ছবি : সংগৃহীত

যেসব গবেষক সকালের নাশতার পক্ষে, তারা কিছু ভালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন ধরনের গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন সকালের খাবার খান, তারা হৃদরোগ, ডায়বেটিস, অবিসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কার্ডিওভাস্কুলারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে কম আক্রান্ত হন।

অন্যদিকে যারা সকালে নাশতা করেন না, তাদের শরীরে বেশ কিছু পুষ্টিগুণের অভাব দেখা যায়।

প্রায় ৩০ হাজার নর্থ আমেরিকানের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে নাশতা করেন না, তাদের শরীরে ফলেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ, বি১-২-৩, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থেকে যায়।

সব দিক বিবেচনা করলে সকালের খাবার খাওয়াটাই উত্তম।
সব দিক বিবেচনা করলে সকালের খাবার খাওয়াটাই উত্তম।ছবি : সংগৃহীত

গবেষকরা বলছেন, সকালের নাশতার সঙ্গে সকালে ঘুম থেকে ওঠার যোগসূত্র আছে। যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন, তারা সারা দিন অনেক সময় পান দিনের কাজগুলো সঠিকভাবে করার এবং সঠিক খাদ্য গ্রহণ করার। তারা ঘুমাতেও যান জলদি।

এখন যারা নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাচ্ছেন, সকালে উঠে নাশতা করে দিনের কাজ শুরু করছেন, তাদের জীবনধারা অন্যদের থেকে অনেকটাই স্বাস্থ্যকর হবে—এটাই স্বাভাবিক। আর যারা সকালের নাশতা বাদ দিচ্ছেন, তাদের জীবনধারা লক্ষ করে দেখা গেছে, তাদের পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি রয়েছে, অনেকেই আবার ধূমপান বা মদপানে অভ্যস্ত, যা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরিপন্থি।

সব দিক বিবেচনা করলে সকালের খাবার খাওয়াটাই উত্তম। এখন কথা হচ্ছে, সকালের খাবারে কী খাবেন। সকালে কী খেলে সারা দিন পর্যাপ্ত শক্তি ও পুষ্টি পাবেন, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

সকালে ওটমিল ও গ্রিক ইয়োগার্ট খেতে পারেন।
সকালে ওটমিল ও গ্রিক ইয়োগার্ট খেতে পারেন।ছবি : সংগৃহীত

সকালে যা খাবেন

ডিম, ওটমিল, গ্রিক ইয়োগার্ট, হোল-গ্রেইন টোস্ট, চিয়া সিডস, কটেজ চিজ, অ্যাভোকাডো, বিভিন্ন ধরনের বাদাম।

এ ছাড়া সুস্থ জীবনযাপন করতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে—

১. পুরো সপ্তাহে সব মিলিয়ে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম;

২. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা;

৩. স্যাচুরেটেড ফ্যাট, সুগার এবং প্রসেসড খাবার থেকে দূরে থাকা;

৪. পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা;

৫. পর্যাপ্ত পানি পান;

৬. পর্যাপ্ত ঘুম, দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা;

৭. ধূমপান বা এই জাতীয় অভ্যাস ত্যাগ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com