পাম অয়েল ও চিনির দাম কমানোর সুপারিশ

রড ও সিমেন্টের দর পর্যালোচনা চলছে
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

পাম অয়েল তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সয়াবিন তেলের বর্তমান দাম বহাল রাখার সুপারিশ এসেছে কমিশন থেকে। পাশাপাশি খোলা ও প্যাকেটজাত উভয় ধরনের চিনির দামই কেজিতে কমপক্ষে ৬ টাকা কমানোর সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার ভালো মানের পাম অয়েল যাকে বলা হয় পাম অয়েল সুপার সেগুলো ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আরেক ধরনের পাম অয়েল প্রতি লিটার ১২৬ থেকে ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুপার পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করে।

এ ছাড়া রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি চিনি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ চিনির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চিনি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে। ট্যারিফ কমিশন প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েলের দাম সর্বোচ্চ ১৩৩, প্রতি কেজি খোলা চিনি সর্বোচ্চ ৮৪ এবং প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি সর্বোচ্চ ৮৮ টাকা নির্ধারনের সুপারিশ করেছে।

গত ৩১ জুলাই বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এক সংবাদ সম্মেলনে চাল, মসুর ডাল, চিনি, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), ডিম, রড, সিমেন্টের দাম বেঁধে দেওয়া হবে বলে জানান। এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ জন্য ট্যারিফ কমিশনকে এসব পণ্যের যৌক্তিক দর কি হওয়া উচিত তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষিজাত পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না। 

ট্যারিফ কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েকটি পণ্যের যৌক্তিক বাজার দর কি হওয়া উচিত সে বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিষয়টি পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গেল, কৃষি বিপণন আইনে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ডিম, পেঁয়াজের মতো পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়কে। একইসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এসব পণ্যসহ আরও বেশকিছু পণ্যের বাজার দর কী হওয়া উচিত তা নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে। শুধু ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ডিমের দাম পর্যালোচনা না করে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারসহ অন্যান্য প্রেক্ষিতে প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১৩৩ এবং প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম সর্বোচ্চ ৮৪ ও প্যাকেটজাত চিনির দাম সর্বোচ্চ ৮৮ টাকা হওয়া উচিত। আর রড ও সিমেন্টে অনেক ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার হয়। সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য পর্যালোচনায় কিছুটা সময় লাগছে।

তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পাম অয়েল ও চিনির দামের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। আর চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ডিমের যৌক্তিক দর কি হওয়া উচিত, তা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নিয়মিত করে থাকে বলে জানানো হয়েছে। আর রড ও সিমেন্টের দর পর্যালোচনার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে পর্যালোচনা প্রতিবেদন তৈরি সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com