‘দফা এক দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ স্লোগানে সুর মেলালেন মির্জা ফখরুল

মহানগর জোন-২ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা বিএনপির সমাবেশ
মহানগর জোন-২ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা বিএনপির সমাবেশছবি: কালবেলা

‘দফা এক দাবি এক —শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ নেতাকর্মীদের এমন স্লোগানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্লোগান ধরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের পক্ষে দাবি তুলে তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি দিতে হবে সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের, ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পদত্যাগ করতে হবে, পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে সরকার গঠন হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও জোড়পুকুর মাঠের সামনে মহানগর জোন-২ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊধর্বগতি এবং ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান হত্যা, পল্লবীসহ সারা দেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনূস মৃধার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস,  বিএনপি নেতা  আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, আফরোজা আব্বাস, রফিকুল আলম মজনু, হাবিবুর রশিদ হাবিব, ইশরাক হোসেন, মোশাররফ হোসেন খোকন, লিটন মাহমুদ, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসকে জিলানী, রাজীব আহসান, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদারসহ মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল গণতান্ত্রিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, আসুন, দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। এ সময় বিএনপি মহাসচিব নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান ধরে বলেন, দাবি এক, দফা এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ। টেকব্যাক, বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন সময় হচ্ছে কাজের। কথার আর সময় নেই। কাজ একটাই বাংলাদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, আমাদের অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি, আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম আমাদের এখানে গণতন্ত্র থাকবে, সাধারণ মানুষকে মোটা ভাত ও মোটা কাপড়ের ব্যবস্থা করতে পারব। কিন্তু এই আওয়ামী লীগ ১৯৭২-৭৫ এবং গত ১৫ বছর এই সময়ে আমাদের সব অর্জন ধ্বংস করে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাকে বলা হয় পাকিস্তানের দালাল। পাকিস্তান আমলে চালের কেজি, আজকে চালের দামের মধ্যে কত পার্থক্য? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম তারা আমাদের শোষণ করেছিল। আমরা লড়াই করে, সংগ্রাম করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। এরা (আওয়ামী লীগ) সেই অবস্থায় ফেলেছে। এরা মেগা প্রজেক্ট করে মেগাদুর্নীতি করছে, বিদেশে পাচার করছে, ঘরবাড়ি করছে, আর আমাদের মানুষের তারা হত্যা করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের তাবিথ আউয়ালের ওপর আঘাত করে, আমাদের বরকত উল্লাহ বুলুকে আঘাত করে, আমাদের সেলিমা রহমানকে আঘাত করে আহত করে, ভোলায় নুরে আলম, আবদুর রহিম এবং নারায়ণগঞ্জে শাওনকে হত্যা করে বাংলাদেশের আন্দোলন দমন করে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। আজকেও জেগে উঠেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, কয়েক বছর আগে আমাদের এই সমাবেশস্থল থেকে ৫০ গজ দূরে ছাত্রনেতা জনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার এই নির্বাচনী এলাকা থেকে দুই নেতাকে গুম করা হয়েছে। তারা সবাই সাধারণ কর্মী থেকে নেতা হয়েছিল। কয়েকদিন আগে শুনেছিলাম পুলিশ আমাদের এই এলাকায় মিটিং করতে দেবে না। আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম মিটিং আমরা করব, কেউ বাধা দিয়ে আটকে রাখতে পারবে না। যদি মিটিং করতে দেওয়া না হয় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মিটিং করব। পুলিশ বাধ্য হয়েছে সমাবেশ করতে দিতে। এরপর আর কোনো অনুমতি চাইব না। এই রাজ্য কারো বাবার নয়, এই রাজ্য সাধারণ জনগণের। 

পুলিশের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন. এই সমাবেশের পরে যদি আমার কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, থানা থেকে নিয়ে আসব, আটক করে রাখতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আজকে এই সমাবেশে কোনো নেতাকর্মীর হাতে লাঠি আছে? বন্দুক-পিস্তল আছে? কিছু নেই। আপনারা লাঠি-বন্দুক-পিস্তল সবকিছু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

এই সরকার কিন্তু শেষ সরকার নয়। এরপরও কিন্তু সরকার আছে। আপনাদের ছবিও প্রিন্ট করা আছে। ভিডিও করা আছে। রেকর্ড করা আছে। আপনাদের বিচার হবে এক দিন।  
মির্জা আব্বাস, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক, আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক, আমরা তারেক রহমানের সৈনিক। এই লড়াইয়ে আমরা জিতেই নেব। এই লড়াই হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ লড়াই। হয় বাঁচব, না হয় মরব।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com