‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন’

‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন’

জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা ও ধারা বেড়েছে। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন। আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনটা বলেন পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিবিএস লিঙ্গ, বয়স এবং প্রতিবন্ধীদের ওপর পরীক্ষামূলক জরিপের একটি শ্রেণিভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করেছে। ইউএন উইমেনের কারিগরি সহায়তায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ওপর এই জরিপটি পরিচালিত হয়।

জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কৃষিজমির মালিকানায় পুরুষের অংশ ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশ এবং নারীদের অংশ ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এতে আরও উল্লেখ করা হয় কৃষি, ব্যবসা, অন্যান্য সেবা অথবা দিনমজুরের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে পুরুষ ৮৯ দশমিক ৪ শতাশং ও নারী ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। পাশাপাশি এসব এলাকায় গৃহস্থালি কাজে নারীর অংশগ্রহণ ৯৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং পুরুষের অংশগ্রহণ ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রকাশিত এই তথ্যের মাধ্যমে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নারী-পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘু এবং শিশুসহ সবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এই জনগোষ্ঠীর সম্পর্কে পৃথক মূল্যায়ন এবং সুনির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে সর্বস্তরের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাহনাজ আরেফিন বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের অভিযোজন এবং প্রশমন উভয় পদ্ধতিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষাবিদ, গবেষক, বেসরকারি এবং সরকারি সব স্তরের সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এবং সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে একটি ন্যায়সঙ্গত, টেকসই এবং স্থিতিস্থাপক বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, কীভাবে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি কমানোর জন্য লিঙ্গ-সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ-ঝুঁকির মধ্যে সমন্বয় করতে এই জরিপের তথ্যকে ব্যবহার করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদনটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাসে জেন্ডার সহায়ক তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোর জন্য সহায়ক হবে। যা জলবায়ু দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে এবং দুর্বলতা হ্রাসে সহায়তা করবে৷

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিসটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (আইএসআরটি) অধ্যাপক ড. সাঈদ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক ড. এ. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারপারসন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নুরুন নবী।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com