‘ছাত্রলীগ করতে করতে কীভাবে কী করতে হয় আমি জানি’

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ।
চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ।পুরোনো ছবি

কর্মী সংগ্রহ নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নিয়ে আবারও নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি নিউজপোর্টালকে সাক্ষাৎকার দেন সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ।

মাহমুদুল করিম যদি সামনাসামনি দাঁড়িয়ে ফাইট করতে পারে, তবে আমি জুতার মালা পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বের হয়ে যাব।
সুভাষ মল্লিক সবুজ, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ

সেই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ছাত্রলীগ থেকে যেমন গুন্ডারা বের হয়, সন্ত্রাসীরা বের হয়, ছাত্রলীগ করতে করতে কীভাবে কী করতে হয়, তা আমি জানি। হাজার হাজার সংগঠক আমি তৈরি করছি এখান থেকে। আমাকে শেখাতে হবে না, কীভাবে কী করতে হবে।’

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, মাহমুদুল করিমের হ্যাডম থাকলে সামনাসামনি দাঁড়াতে বলবেন। যদি সামনাসামনি দাঁড়িয়ে ফাইট করতে পারে, তবে আমি জুতার মালা পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বের হয়ে যাব।’

মঙ্গলবার দুপুরে কর্মী সংগ্রহ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

সবুজের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা রকম আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ক্যাম্পাসে আরও অস্থির পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা করছেন।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুল কালবেলাকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ মেধা তৈরির কারখানা। এ দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মেধাবী হিসেবে তৈরি করতে তাদের চলার পথ মসৃণ রাখে ছাত্রলীগ। যারা ছাত্রলীগকে গুন্ডা-সন্ত্রাসী তৈরির কারখানা হিসেবে আখ্যা দেয়, তাদের প্রকৃত আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। চট্টগ্রাম কলেজ মেধাবীদের চারণভূমি। যারা মেধা তৈরির কারখানাকে পেশিশক্তি ব্যবহার করে জিম্মি করতে চায়, তারাই এ ধরনের কথা বলতে পারে।’

‘পেশিশক্তির ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও ভয় পাই। তবে প্রশাসনের কাছে আবেদন থাকবে, যারা পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মেধাবীদের জিম্মি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অবরোধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কর্মী সংগ্রহ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধানের কক্ষও ভাঙচুর করা হয়।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।’

গত এক বছরে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। সভাপতির গ্রুপটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী এবং সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com