আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত করল বিএনপি

বিএনপির লোগো
বিএনপির লোগোছবি : সংগৃহীত

সরকারের পদত্যাগসহ আন্দোলনের ৯ দফা খসড়া চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এসব দাবির মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হচ্ছে—খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সংসদ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন। বাকি দফাগুলো হচ্ছে—সাংবাদিক ও আলেমদের মামলা প্রত্যাহার ও তাদের সাজা বাতিল এবং কারাবন্দিদের মুক্তি; ডিজিটাল আইন-২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ বাতিল; জ্বালানি তেল, গ্যাস, পানির মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা। দুর্নীতি চিহ্নিত করতে কমিশন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই ৯ দফা খসড়া নিয়ে দ্রুত সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বিএনপি। তাদের মতামত নিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রস্তুত করা হবে। অভিন্ন দাবির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মে মাস থেকে ২০ দলীয় জোট, যুক্তফ্রন্ট এবং বাম ধারার মোট ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। ওই  বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা কালবেলাকে বলেন, এর আগে ‘আন্ডার শেখ হাসিনা, নো ইলেকশন’—এ ইস্যুতে ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সব রাজনৈতিক দলই একমত হয়েছে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। সবাই অভিন্ন দাবিতে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলেছেন। এবার আমরা একটা আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছি। গত সোমবার তা স্থায়ী কমিটিও অনুমোদন দিয়েছে। এখন এই খসড়া নিয়ে ওই সব রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হবে। এরপর অভিন্ন দাবিতে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নিজ নিজ দলের ব্যানারে অথবা জোটবদ্ধভাবে যুগপৎ কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিএনপির লোগো
‘দফা এক দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ স্লোগানে সুর মেলালেন মির্জা ফখরুল

গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আরও অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সভায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তরের শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ প্রায় ৫০ জন আহত হওয়ায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। একই দিনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও তার স্ত্রীকে মনোহরগঞ্জে একটি রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতির সময় আওয়ামী নেতাকর্মীদের দ্বারা হামলা এবং গুরুতর জখম করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়। বরকত উল্লাহ বুলু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিএনপির লোগো
আ.লীগ সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে : মির্জা ফখরুল

সভায় বলা হয়, এর আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ওপর কেরানীগঞ্জে আওয়ামী নেতাকর্মীদের আক্রমণ ও সারা দেশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, পুলিশের গুলিবর্ষণ প্রমাণ করে—আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করতে চায়।

সভায় আরও বলা হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতা, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, একই সঙ্গে সংবিধানসম্মত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে হামলায় আবারও প্রমাণিত হচ্ছে, আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকার, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, হামলা করে, ত্রাস সৃষ্টি করে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আর একটি প্রহসনের একদলীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলবিহীন একটি সাজানো নির্বাচন অনুষ্ঠান করে ক্ষমতায় থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য।

সভায় এসব হামলা, মিথ্যা মামলা, দমনমূলক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। অবিলম্বে এসব হামলার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়। বিরোধী দলের গ্রেপ্তারকৃত সব নেতাকর্মীকে মুক্তি প্রদান ও আনীত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় জনগণের প্রতিরোধের মাধ্যমেই অবৈধ সরকারকে বিদায় নিতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com