নীল তিমির অজানা ৮ তথ্য

নীল তিমি।
নীল তিমি।সংগৃহীত

নীল তিমি বা ব্লু হোয়েল এই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির প্রাণী। গভীর সমুদ্র ছাড়া এদের দেখা মেলা ভার। বিশালাকার এই প্রাণী সম্পর্কে আমরা খুব কম তথ্যই জানি। নীল তিমির কিছু অজানা তথ্য জেনে নিন।

১. নীল তিমির শাবক সাধারণত অনেক বড় হয়। এরা মায়ের গর্ভে থাকে প্রায় এক বছর। জন্ম গ্রহণের পর এদের ওজন হয় ৫ থেকে ৭ টনের মতো, আর প্রায় ৭ মিটারের মতো লম্বা হয় আকারে।

২. তিমির গায়ে বা পিঠে হালকা ফুসকুড়ির মতো ওঠা বেশ স্বাভাবিক হলেও এতদিন এর কারণ অজানা ছিল। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফুসকুড়ি আসলে সানট্যান। অনেক বেশি সময় তিমি যেহেতু সমুদ্রের উপরিভাগে কাটায়, তাই ওই সময় সূর্যের তাপে এই ব্লিস্টারগুলো তিমির পিঠে দেখা দেয়।

সংক্ষেপে

বিশ্বের অনেক দামি সুগন্ধি তথা পারফিউমে সামান্য পরিমাণ তিমির বর্জ্য থাকে। অবাক করা ব্যাপার হলেও সত্যি যে, স্পার্ম হোয়েলের বর্জ্যে থাকে অ্যামবারগিস নামে এক ধরনের উপাদান। আর এই উপাদানটিই সুগন্ধি বানাতে কাজে লাগে। মাত্র এক গ্রাম অ্যামবারগিসের দাম পড়বে প্রায় ২০ ডলার।

নীল তিমি ও শাবক।
নীল তিমি ও শাবক।সংগৃহীত

৩.পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মস্তিস্ক স্পার্ম তিমির। একটি স্পার্ম তিমির মস্তিস্কের ওজন প্রায় ৯ কেজি। শুধু তাই নয়, তিমির মস্তিস্ক ছাড়া বাকি যে অংশ আছে, তা মূলত এক বিশাল তেলের কন্টেইনার। এই তেল সংগ্রহ করতেই শিকারিরা তিমি শিকার করছে।

৪. অধিকাংশ তিমি আধা ঘণ্টার বেশি সমুদ্রে ডুব দিতে পারে না। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, ক্যাভিয়ার’স বিকড তিমি। এরা সমুদ্রের প্রায় ৩ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত ডুব দিতে পারে, যাতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। এখানে বলে রাখা ভালো যে, একজন অভিজ্ঞ স্কুবা ডাইভারও কিন্তু ৪০ মিটারের বেশি গভীরতায় ডুব দিতে পারে না।

৫. তিমি সাধারণত অনেক বছর বাঁচে। কখনও তাদের বয়স ১০০ পার হয়ে যায়। এর মধ্যে বওহেড তিমি বাঁচে প্রায় ২০০ বছর।

ক্যাভিয়ার বিকড হোয়েল।
ক্যাভিয়ার বিকড হোয়েল।সংগৃহীত

৬. বেশিরভাগ তিমি দূরের পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ। স্পার্ম হোয়েল সাধারণত খাবারের খোঁজে হিমশীতল আর্কটিক এবং এটার্কটিক অঞ্চলে যায়। তবে প্রজননের জন্য তাদের ফিরে আসতে হয় কম শীতল সামুদ্রিক অঞ্চলে।

সবচেয়ে বেশি এলাকা ভ্রমণ করার রেকর্ড একটি মাদী গ্রে হোয়েলের। ওই তিমি রাশিয়ার হিমশীতল ইস্টার্ন-কোস্ট থেকে ঘুরে আবার ফিরে এসেছিল মেক্সিকোর উষ্ণ সমুদ্রে।

৭. আলবিনো হাম্পব্যাক হোয়েলকে বলা হয় সাগরের ইউনিকর্ন। এর দেখা পাওয়া যায় সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ইস্টার্ন-কোস্টে। এই তিমির চমৎকার একটি নামও আছে। ওর নাম ‘মিগালু’।

আলবিনো হাম্পব্যাক মিগালু।
আলবিনো হাম্পব্যাক মিগালু।সংগৃহীত

৮. বিশ্বের অনেক দামি সুগন্ধি তথা পারফিউমে সামান্য পরিমাণ তিমির বর্জ্য থাকে। অবাক করা ব্যাপার হলেও সত্যি যে, স্পার্ম হোয়েলের বর্জ্যে থাকে অ্যামবারগিস নামে এক ধরনের উপাদান। আর এই উপাদানটিই সুগন্ধি বানাতে কাজে লাগে। মাত্র এক গ্রাম অ্যামবারগিসের দাম পড়বে প্রায় ২০ ডলার, আর এই উপাদানে বানানো সুগন্ধি কিনতে গেলে আপনাকে খরচ করতে হবে ১১ হাজার ডলার।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com