ঘড়ির কাঁটা বাঁ দিকে ঘোরে না কেন?

সময় জানতে ঘড়ি দেখেন না এমন মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
সময় জানতে ঘড়ি দেখেন না এমন মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।প্রতীকী ছবি

মানুষ সময়ের ওপর নির্ভরশীল। আর সময় বুঝতে ঘড়ির কোনো বিকল্প নেই। প্রাত্যহিক জীবনে সকালে জেগে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ঘড়ির ব্যবহার অপরিহার্য। সময় জানতে ঘড়ি দেখেন না এমন মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ঘড়ির কাঁটা বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ঘোরে কেন?

মিসরের ভ্যালি অব কিংসে আবিষ্কৃত পৃথিবীর প্রথম সূর্যঘড়ি।
মিসরের ভ্যালি অব কিংসে আবিষ্কৃত পৃথিবীর প্রথম সূর্যঘড়ি।ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম কিডাডিএল জানাচ্ছে, মূলত প্রাচীন সূর্যঘড়ির ধারণা থেকে কাঁটাযুক্ত ঘড়ি উদ্ভাবন হয়েছিল। ৫৬০ খ্রিষ্টপূর্বে অ্যানাক্সিমান্ডার নামে মিলেটাসের একজন দার্শনিক প্রথম গ্রিসে সূর্যঘড়ি চালু করেছিলেন। এ সময় সূর্যের ছায়ার ওপর নির্ভর করে সময় দেখা হতো। আর তখন লক্ষ করা হয়, সূর্যোদয় থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এটি বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ছায়া ফেলে। কারণ, ওই স্থানটি ছিল উত্তর গোলার্ধে। ওখানে সূর্য যখন পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায়, তখন সূর্যঘড়ির দণ্ডের ছায়াটি বাঁ থেকে ডান দিকে ঘুরত।

পিটার হেনেলিনের তৈরি কাঁটাযুক্ত পকেট ঘড়ি।
পিটার হেনেলিনের তৈরি কাঁটাযুক্ত পকেট ঘড়ি।ছবি : সংগৃহীত

পরে ঘড়ি উদ্ভাবনের সময় সূর্যঘড়ির সূত্র অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা ডান দিকে ঘোরানোর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সেটি অনুসরণ করেই ১৫২৪ সালে পিটার হেনেলিন প্রথম কাঁটাযুক্ত পকেট ঘড়ি তৈরি করেন। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের আগে অধিকাংশ ঘড়িই ছিল পকেট ঘড়ি, যা শিকলের মাধ্যমে পকেটের সঙ্গে আটকে রাখা হতো। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে সেই ধারণা বদলে হাতঘড়ি তৈরি করা হয়। এ সময়ও ঘড়ির কাঁটা বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ঘোরার বিষয় মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘড়ির কাঁটা ডান দিকে চলার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই। মূলত এটির উদ্ভাবক দেশের অবস্থান পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে হওয়ায় এটি ডান দিকে ঘোরে। তবে যদি দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো দেশ, যেমন—অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডে উদ্ভাবন হতো, তবে এটি উল্টো ঘুরত। কারণ, সূর্য পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে সূর্যঘড়িতে তা বাঁ দিকে ছায়া ফেলত।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com