মাঙ্কিপক্সের ভয়াবহ সংক্রমণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

মাঙ্কিপক্সের ভয়াবহ সংক্রমণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। বিশ্বের অনেক দেশের মতো এ নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রও।

দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঙ্কিপক্সের বিস্তারকে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণায় ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট পর্যন্ত আমেরিকায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসের সেক্রেটারি জেভিয়ার বেসেরা বলেন, ‘আমরা এই ভাইরাস মোকাবিলায় পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের অনুরোধ, প্রতিটি আমেরিকান যেন মাঙ্কিপক্সকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।’

এই ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো হলো জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, ঠান্ডা লাগা এবং কিছুটা চুলকানি ও ব্যথাযুক্ত র‍্যাশ। এখন পর্যন্ত আমেরিকায় মাঙ্কিপক্সে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সিডিসি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, লক্ষণ দেখা দেয়ার শুরু থেকে র‍্যাশ ভালো হয়ে, মরা চামড়া খসে নতুন চামড়া তৈরি হওয়া পর্যন্ত মাঙ্কিপক্স ছড়াতে পারে। সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এটি সেরে যায়।

জড়িয়ে ধরা, জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকা ও চুমু খাওয়ার মাধ্যমে দুজন মানুষের ত্বক একজন আরেকজনের সংস্পর্শে এলে এবং একই বিছানা, তোয়ালে ও কাপড় ব্যবহার করলে মাঙ্কিপক্স ছড়াতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, যে কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সমকামী পুরুষদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

জাতিসংঘ কিছু সংবাদের সমালোচনা করে সতর্ক করে বলেছে, অপসাংবাদিকতা সমকামিতাভীতি ও বর্ণবাদী ধ্যানধারণা জোরদার করতে এবং স্টিগমা বাড়াতে পারে।

নিউ ইয়র্ক এবং সান ফ্রান্সিসকোসহ কিছু শহরে মাঙ্কিপক্সের টিকার স্বল্পতার কারণে বাইডেন সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আমেরিকার কিছু রাজ্য ও পৌরসভা এরই মধ্যে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা জারি করেছে।

গত ১ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়া জরুরি অবস্থা জারি করে। এই রাজ্যে শনাক্তের সংখ্যা ৮২৬। ২৯ জুলাই একই নির্দেশনা জারি করে নিউ ইয়র্ক, যাদের শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৬।

গত ২৩ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মাঙ্কিপক্সের বিস্তারকে আন্তর্জাতিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটি সংগঠনটির সর্বোচ্চ সতর্কতা মাত্রা।

এখন পর্যন্ত ৭০টি দেশ ভাইরাস সংক্রমণের কথা জানিয়েছে এবং সিডিসি বলছে, বিশ্বজুড়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ মাঙ্কিপক্স সংক্রমিত হয়েছে।

মাঙ্কিপক্স যৌন রোগ হিসেবে পরিচিত না হলেও যৌন সঙ্গমের সময় মানুষ খুব ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকায় ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জাতিসংঘ সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে যৌনসঙ্গীর সংখ্যা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com