আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সামরিক অভিযানে ৬৪ শিশু নিহত

২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে হেলমান্দ প্রদেশের কাজকি এলাকায় যুক্তরাজ্যের সেনারা।
২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে হেলমান্দ প্রদেশের কাজকি এলাকায় যুক্তরাজ্যের সেনারা।ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের সময় ১৬ জন শিশু নিহত হয়েছে বলে জনসম্মুখে স্বীকার করলেও এ সংখ্যার চারগুণ অর্থাৎ ৬৪ জন শিশুর মৃত্যুবাবদ ক্ষতিপূরণ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

তারা সবাই ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর লড়াইয়ে মারা যান। দাতব্য সংস্থা অ্যাকশন অন আর্মড ভায়োলেন্সের (এওএভি) এক অনুরোধ থেকে নতুন এ তথ্য সামনে আসে। খবর বিবিসির।

অভিযানে এসব শিশুর মৃত্যুর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো বিমান হামলা ও ক্রসফায়ারের ঘটনার মধ্যে আটকা পড়া।

সংগঠনটি মনে করছে, অভিযানে ব্রিটিশ সেনারা বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর যে সংখ্যা বলেছেন তা বাস্তবের চেয়ে কম। প্রকৃত পক্ষে ১৩৫ জন শিশু নিহত হতে পারে। কেননা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু নিহতের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে শুধু ছেলে বা মেয়ে হিসেবে উল্লেখ করেছে। সব সময় নিহতদের বয়স ও পরিস্থিতি যোগ করা হয়নি।

২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে হেলমান্দ প্রদেশের কাজকি এলাকায় যুক্তরাজ্যের সেনারা।
আফগানিস্তানে মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণ, তালেবানপন্থি ধর্মীয় নেতাসহ নিহত ১৮

ক্ষতিপূরণের ৮৮১টি দাবির অধিকাংশই প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্য সরকার এবং মাত্র চার ভাগের এক ভাগ মানুষ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০০৬-১৪ সাল পর্যন্ত ২৮৯ আফগান বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য ৬ লাখ ৮৮ হাজার পাউন্ড দিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একটি বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সংঘাতের সময় যে কোনো বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু মর্মান্তিক। এটি আরও বেশি মর্মান্তিক যখন নিহতের সঙ্গে শিশু ও পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট থাকে।’

সেনা সদস্যরা বেসামরিক লোকদের ওপর আঘাত কমানোর চেষ্টা করলেও দুঃখজনকভাবে এটি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা যায় না বলেও জানায় মন্ত্রণালয়। তবে মৃত্যুর বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সমালোচনা করেছেন এওএভি’র পরিচালক ইয়ান ওভারটন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com