শ্রীলঙ্কায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে

২০২১ সাল থেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে শ্রীলঙ্কায়
২০২১ সাল থেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে শ্রীলঙ্কায়ছবি : সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা, ফলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৭০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে বলে দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে।

দ্রুত গতিতে বেড়ে চলা মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়েছে দেশটি, গত বছরের তুলনায় এ বছরের আগস্টে খাবারের মূল্য বেড়েছে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ। খাদ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের মূল্য বেড়েছে ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ।

দেশটির আদমশুমারি ও পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে গতকাল বুধবার ন্যাশনাল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (এনসিপিআই ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জুলাই পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ
জুলাই পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশছবি : সংগৃহীত

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুলাই পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ, ঠিক একমাস পর সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ দশমিক ২ শতাংশ।

২ কেটি ২০ লাখ জনবসতির দেশটি মূলত পর্যটন নির্ভর। ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে। গত কয়েক দশকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে, তাই মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

২০১৫ সালে দেশটিতে ন্যাশনাল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স চালু হয়। এর পর থেকে প্রতি ২১ দিন পর ভোগ্যপণ্যের খুচরা মূল্যের রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

সেপ্টেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২০২৩ সালের শেষ ছয় মাসে মুদ্রাস্ফীতি মাঝারি এবং এক ডিজিটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিমান্থা ম্যাথিউ
আগস্টে খাবারের মূল্য বেড়েছে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
আগস্টে খাবারের মূল্য বেড়েছে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ।ছবি : সংগৃহীত

তবে নিত্যপণ্যের বাজার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে কলম্বো কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ( সিসিপিআই)। সিসিপিআই প্রতি মাসের শেষে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আগস্টে শুধু রাজধানী কলম্বোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর এ পরিসংখ্যাই দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা পরিমাপের জন্য যথেষ্ট।

গত জুনের সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর জুনে দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, যা তিন মাস সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

কলম্বোভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা ফার্স্ট ক্যাপিটালের গবেষণা প্রধান ডিমান্থা ম্যাথিউ বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২০২৩ সালের শেষ ছয় মাসে মুদ্রাস্ফীতি মাঝারি এবং এক ডিজিটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।‘

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com