মেয়েকে পেটানো হয়েছিল : মাহসা আমিনির বাবা

নিহত মাহসা আমিনি।
নিহত মাহসা আমিনি। ছবি : সংগৃহীত

মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ইরান। এরই মধ্যে ২২ বছর বয়সী এই নারীর বাবা জানালেন, দেশটির কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে মিথ্যাচার করেছে। খবর বিবিসির।

বিবিসি ফার্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমজাদ আমিনি বলেছেন, তাকে মাহসা আমিনির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেখতে দেওয়া হয়নি এবং তার মেয়ের স্বাস্থ্য খারাপ ছিল বলেও অস্বীকার করেছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনিকে মারধর করা হয়। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের পুলিশ আটক করে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন দিন কোমায় থাকার পর গত শুক্রবার মারা যান ২২ বছর বয়সী আমিনি। তবে পুলিশের দাবি, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন তিনি।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে তেহরানসহ পুরো ইরান। চলমান এ বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও যোগ দিয়েছেন। বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন।
নিহত মাহসা আমিনি।
ইরানে মাহসা আমিনির মৃত্যু, স্কার্ফ জ্বালিয়ে নারীদের প্রতিবাদ

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রোস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব পরেননি। এমনকি তার শরীরের অন্যান্য অংশে ভালোভাবে ঢেকে তিনি পোশাক পরেননি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে তেহরানসহ পুরো ইরান। চলমান এ বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও যোগ দিয়েছেন। বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন।

আমজাদ আমিনি বলেন, তার মেয়েকে আটকের সময় তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে কিয়ারশ সেখানে ছিল। কিয়ারশকে বলা হয়, তার বোনকে মারধর করা হয়েছে।

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান।
বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি : সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে তার সঙ্গে ছিল। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আমার ছেলেকে বলেছে যে তাকে ভ্যানে ও থানায় মারধর করা হয়েছে। আমার ছেলে তাকে না নিতে অনুরোধ করে। কিন্তু তাকেও মারধর করা হয় এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়।’

মাহসা আমিনির বাবা বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বডি-ক্যামেরা দেখাতে বলেছিলাম। তারা আমাকে জানায়, ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ ছিল না।’

চিকিৎসকরা বাধা দেন

মেয়ের মৃত্যুর পর তার লাশ দেখতে চান আমজাদ আমিনি। তাকে বারবার বাধা দেন চিকিৎসাকর্মীরা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ঢুকতে দেয়নি।’

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেখাতে বললে চিকিৎসকরা তাকে বলেন, ‘আমি যা চাই তা লিখব এবং এর সঙ্গে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই।’

তেহরান প্রদেশের ফরেনসিক মেডিসিনের মহাপরিচালক দাবি করেন, আট বছর বয়সে মাহসা আমিনির মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়, যা তার মৃত্যুতে অবদান রাখতে পারে। তবে এমন দাবির সমালোচনা করেছেন আমজাদ আমিনি।

তিনি বলেন, ‘তারা মিথ্যা বলছে। ও গত ২২ বছরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা ছাড়া হাসপাতালে যায়নি। ওর কখনোই স্বাস্থ্যগত এমন অবস্থা হয়নি; কখনও অস্ত্রোপচার হয়নি।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com