মহাদেশ : অ্যান্টার্কটিকার আদ্যোপান্ত, পর্ব-৫

(শেষ পর্ব)
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও বসবাসের অনুপযোগী মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও বসবাসের অনুপযোগী মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকাসংগৃহীত ছবি

আমাদের গোলাকার পৃথিবীর একদম তলদেশে অবস্থিত মহাদেশটির নাম অ্যান্টার্কটিকা। এটি একাধারে বিশ্বের শীতলতম এবং শুষ্কতম মহাদেশ। বিশ্বে বরফ হিসেবে জমাটবদ্ধ সুপেয় পানির শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই এই মহাদেশে অবস্থিত।

দুর্গম হওয়ায় তাই এই অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে গুজবের কোনো কমতি নেই। পাঠক, পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক এই লেখায় গুজবকে পাশ কাটিয়ে দুর্গম ও রহস্যময় অ্যান্টার্কটিকা সম্পর্কে জানাবো খাঁটি ও নিরেট তথ্য।

ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার দেখছে কৌতুহলী একটি পেঙ্গুইন, অন্যটি করছে ব্যাগ তালাশ!
ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার দেখছে কৌতুহলী একটি পেঙ্গুইন, অন্যটি করছে ব্যাগ তালাশ!বিং, মাইক্রোসফট

বালুময় মরুভূমির প্রাণীর কথা বললে মনের অজান্তেই উটের ছবি ভেসে ওঠে। তেমনি বরফাচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকার প্রাণীদের কথা বললেও সবার আগে উঠে আসবে পেঙ্গুইনের নাম।

পেঙ্গুইন দীর্ঘদিন ধরে একচেটিয়াভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাস করে আসছে। একে আমরা প্রাণী হিসাবে জানলেও এটি আসলে এক প্রকার পাখি। কিন্তু এরা আকাশে উড়তে পারে না। পিঠে থাকা পাখাকে তারা সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে।

ডানা থাকলেও পেঙ্গুইনের কোন প্রজাতিই উড়তে পারে না
ডানা থাকলেও পেঙ্গুইনের কোন প্রজাতিই উড়তে পারে নাসংগৃহীত ছবি

পেট সাদা, পিঠ কালো; এমন বাহ্যিক অবয়বের কারণে পেঙ্গুইন বরফের মধ্যে সহজেই ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। এরা ক্রিল মাছ, স্কুইড মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে থাকে।

পানির নিচে সাঁতার কেটে শিকার ধরে পেঙ্গুইন। সবচেয়ে বিচিত্র ব্যাপার হলো তারা তাদের জীবনের অর্ধেক সময় ভূমিতে বাকি অর্ধেক সময় পানিতে বাস করে।

পেঙ্গুইনের জীবদ্দশার অর্ধেকটা জলে বাকিটা স্থলে কাটে
পেঙ্গুইনের জীবদ্দশার অর্ধেকটা জলে বাকিটা স্থলে কাটে সংগৃহীত ছবি

পাখিদের ডানা আকাশে উড়ার জন্য হইলেও পেঙ্গুইন এর ডানা সাঁতার কাটার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। পেঙ্গুইন পানির নিচে ঘণ্টায় ১৫-২৫ মাইল পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে।

কিং পেঙ্গুইনরা সকল প্রজাতির চেয়ে সবচেয়ে বড় হয়। এ প্রজাতির পেঙ্গুইনদের বাচ্চাও অন্য সকল প্রজাতির বাচ্চাদের থাকে বড় হয়ে থাকে। পেঙ্গুইনদের পা এমনভাবে তৈরি যে তারা সমুদ্রের বরফের উপর দিয়ে ৬০ মাইল পর্যন্ত যেতে পারে!

বরফ ভেঙ্গে পেঙ্গুইন ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার হাঁটতে পারে
বরফ ভেঙ্গে পেঙ্গুইন ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার হাঁটতে পারে সংগৃহীত ছবি

পেঙ্গুইন ছাড়াও বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকায় রয়েছে সাত প্রজাতির সীল। চারদিক থেকে মহাদেশটিকে ঘিরে রাখা দক্ষিণ মহাসাগরে প্রায় ১০ প্রজাতির তিমি বসবাস করে।

এ ছাড়াও মহাদেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে চিংড়ি ও কৃমিজাতীয় প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে সেখানে রয়েছে এক হাজার প্রজাতিরও বেশি ছত্রাক।

সামুদ্রিক সিল। অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনের পরই এদের আনাগোনা বেশি দেখা যায়
সামুদ্রিক সিল। অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনের পরই এদের আনাগোনা বেশি দেখা যায়শাটারস্টোক

পাঠক, আগেই বলা হয়েছে- অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর একমাত্র মহাদেশ যেখানে স্থায়ীভাবে মানুষ বসবাস করে না। যেহেতু এটি কোনো দেশের মালিকানায় নেই, তাই সেখানে ভ্রমণের জন্য কোন ভিসারও প্রয়োজন নেই। ইদানীং সেখানে স্বল্প পরিসরে ভ্রমণের আয়োজনও করা হয়। তবে মানতে হয় অনেক বিধিনিষেধ।

সতর্কতা- পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশ আমাদের মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টার্কটিকা এখনো নিজের আদিরূপ ধরে রাখতে পেরেছে। তাই সেখানে ভ্রমণে গেলে জীব-বৈচিত্র ও সেখানকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোন কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com