মহাদেশ : অ্যান্টার্কটিকার আদ্যোপান্ত, পর্ব-২

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও বসবাসের অনুপযোগী মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও বসবাসের অনুপযোগী মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকাসংগৃহীত ছবি

আমাদের গোলাকার পৃথিবীর একদম তলদেশে অবস্থিত মহাদেশটির নাম অ্যান্টার্কটিকা। এটি একাধারে বিশ্বের শীতলতম এবং শুষ্কতম মহাদেশ। বিশ্বে বরফ হিসেবে জমাটবদ্ধ সুপেয় পানির শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই এই মহাদেশে অবস্থিত।

দুর্গম হওয়ায় তাই এই অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে গুজবের কোনো কমতি নেই। পাঠক, পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক এই লেখায় গুজবকে পাশ কাটিয়ে দুর্গম ও রহস্যময় অ্যান্টার্কটিকা সম্পর্কে জানাবো খাঁটি ও নিরেট তথ্য।

গ্রীষ্মে নীল জলে শুভ্র বরফের দীগন্তজোড়া হাতছাঁনি (অ্যান্টার্কটিকা)
গ্রীষ্মে নীল জলে শুভ্র বরফের দীগন্তজোড়া হাতছাঁনি (অ্যান্টার্কটিকা)সংগৃহীত ছবি

আজ দ্বিতীয় পর্ব

গত পর্বে আমরা জেনেছিলাম যে, ১৬ কোটি বছর আগেও অ্যান্টার্কটিকার অবস্থান ছিলো বিষুব রেখার কাছাকাছি। তাহলে কীভাবে মহাদেশটি আজকের অবস্থানে এলো?

এর উত্তর হলো- ওই সময় পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ প্যানজিয়া নামক একটি সুপার কন্টিনেন্টের অংশ ছিল। তখন অ্যান্টার্কটিকা ছিল ঘন বনের ঢাকা। যেখানে অতিকায় সব ডায়নোসর ঘুরে বেড়াতো।

প্যানজিয়াম সুপার কন্টিনেন্ট। যেখানে সবগুলো মহাদেশ একত্রে ছিলো
প্যানজিয়াম সুপার কন্টিনেন্ট। যেখানে সবগুলো মহাদেশ একত্রে ছিলোসংগৃহীত ছবি

এখন থেকে ১৬ কোটি বছর আগে প্যানজিয়া ভেঙে আন্টার্টিকা মহাদেশ তার দক্ষিণমুখী যাত্রা শুরু করে। এর পরেও আরও প্রায় ১২ কোটি বছর এই মহাদেশজুড়ে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বিচরণ ছিল।

যদিও এরমধ্যে এক উল্কাপিন্ডের আঘাতে পৃথিবী থেকে সব স্থলচর এবং উভচর প্রজাতির ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

উল্কাপাতে পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়
উল্কাপাতে পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়সংগৃহীত ছবি

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে প্রথম বরফ জমা শুরু হয় আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি বছর আগে। তবে বর্তমান চেহারায় আসতে সময় লাগে আরও অন্তত দুই কোটি বছর।

প্যানজিয়া ছেড়ে এই রূপে আসতে অ্যান্টার্কটিকার সময় লেগেছে প্রায় দুই কোটি বছর
প্যানজিয়া ছেড়ে এই রূপে আসতে অ্যান্টার্কটিকার সময় লেগেছে প্রায় দুই কোটি বছরসংগৃহীত ছবি

উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে- পুরোপুরি বরফে ঢেকে যাবার পর একাধিকবার উষ্ণায়নের প্রভাবে আন্টার্টিকায় বরফ গলে যাবার ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকাতে যে পরিমাণ বরফ রয়েছে তার সব যদি গলে যায় তাহলে বিশ্বের সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১১ ফুট বেড়ে যাবে৷ গত এক শতাব্দীতে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটার বা প্রায় আট ইঞ্চি বেড়ে গিয়েছে৷

ধারণার চেয়ে বেশি দ্রুত গতিতে গলছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ
ধারণার চেয়ে বেশি দ্রুত গতিতে গলছে অ্যান্টার্কটিকার বরফসংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞের প্যানেল ধারণা করছে, চলতি শতাব্দীতে ১৮ থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার বা সাত থেকে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়বে সমুদ্রের পানির উচ্চতা৷ এর সঙ্গে যদি যোগ হয় অ্যান্টার্কটিকার বরফ তাহলে তো কথাই নেই৷

পৃথিবীর মধ্যে অন্যরকম এক পৃথিবী অ্যান্টার্কটিকা। ব্যতিক্রম এই মহাদেশটি কে আবিষ্কার করেছেন, আর আবিষ্কারের সেই গল্প জানাবো আাগমী পর্বে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com