১০ দিনের মধ্যে চিন পিংয়ের সঙ্গে কথা বলতে চান বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংসংগৃহীত ছবি

তাইওয়ান ও বাণিজ্য ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে- ম্যাসাচুসেটসে জলবায়ু-সম্পর্কিত এক সফরে গিয়েছিলেন বাইডেন। ফেরার পথে গতকাল স্থানীয় সময় বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চিন্তা করেছি যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবো।’

তবে কেন জরুরি ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বী চিন পিংয়ের সঙ্গে কথা বলবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি বাইডেন। ধারণা করা হচ্ছে- ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে সহায়তা না করতে অন্যান্য বিষয়ে দেশটির সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারেন বাইডেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনএএফপি

বাইডেন এমন সময় চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার কথা জানালেন, যখন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করবেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বেড়িয়েছে। যার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

এ বিষয়ে বাইডেন বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, এই সময় সফরের পরিকল্পনা সঠিক নয়।’ তবে পরিকল্পনাটি ঠিক কোন অবস্থায় রয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। আর এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা ইস্যুর কথা বলে পেলোসির কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিগেটি ইমেজেস

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- আগামী আগস্টে তাইওয়ান সফরের পরিকল্পনা করছেন পেলোসি। তার এই সফরের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বলেলেও তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- এ বিষয়ে তারা বাইডেনের মন্তব্য শুনেছেন। তারা এও জানিয়েছেন যে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ভালো সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে। তারা ঘটনা প্রবাহগুলোর দিকে নজর রাখছেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে পেলোসি তাইওয়ান সফরে গেলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে চীন। বেইজিং বলেছে, এই ধরনের সফর চীনের ‘সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে’ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

উল্লেখ্য, স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চলছে। দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখে চীন। তবে চীনের অংশ নয়, নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করছে তাইওয়ান। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের দাবিকে সমর্থন করে সেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com