যে ১০টি তথ্য অবশ্যই আপনাকে বিস্মিত করবে

পৃথিবীর অনেক বিস্ময়কর তথ্যই আমরা জানি না
পৃথিবীর অনেক বিস্ময়কর তথ্যই আমরা জানি নাসংগৃহীত ছবি

বিস্ময় ও বৈচিত্রে ভরপুর আমাদের এই পৃথিবী। তবুও আপনি হয়তো হাতেগোনা কিছু বিস্ময়কর জিনিস সম্পর্কে জানেন। অজানা ও বিস্ময়কে জানার পথে আপনার ঝুলিকে আরও সমৃদ্ধ করতেই আমাদের এই লেখা। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে অদ্ভুত, বিস্ময়কর ও অজানা ১০টি তথ্য।

যা আপনার জ্ঞান ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটিসংগৃহীত ছবি

১. বিশ্বের মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি। আপনি যখন কল্পনা করবেন তখন এটিকে অনেক বেশিই মনে হবে। কিন্তু বিশ্বের সমস্ত মানুষকে যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে বলা হয়, তাহলে কতটুকু জায়গা দরকার হবে জানেন?

আপনি হয়তো অনেক দেশ, মহাদেশ কল্পনা করে ফেলেছেন কিন্তু বাস্তবে বিশ্বের সমস্ত মানুষ একত্রে দাঁড়াতে দরকার হবে মাত্র ১৩ হাজার বর্গমাইল। আয়তনে যা যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস শহরের সমান।

বিশ্বের অন্যতম সেরা কোমল পানীয় কোকা-কোলা
বিশ্বের অন্যতম সেরা কোমল পানীয় কোকা-কোলাসংগৃহীত ছবি

২. বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কোমল পানীয় কোকাকোলা। সব দেশেই পাওয়া যায় এই পানীয়। কিন্তু বিশ্বের এমন দুটি দেশে রয়েছে, যেখানে কোকাকোলা পাওয়া যায় না। দেশ দুটি হলো- উত্তর কোরিয়া ও কিউবা। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে- দেশ দুটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকায় সেখানে এই জনপ্রিয় পানীয় পাওয়া যায় না।

তবে আপনি যদি ওই দেশ দুটির কোন একটি গিয়ে কোকাকোলা খেতেই চান, তবে একেবারে নিরাশ নাও হতে পারেন। সেক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে গোপন পথে আনা কোকাকোলা দিয়ে গলা ভেজাতে পারেন। তবে সাবধান, সেগুলোর দাম শুনে না আবার গলা শুকিয়ে যায়!

এখনো যমজ শিশু জন্মের প্রকৃত কারণ উন্মোচন করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা
এখনো যমজ শিশু জন্মের প্রকৃত কারণ উন্মোচন করতে পারেননি বিজ্ঞানীরাসংগৃহীত ছবি

৩. যমজ শিশুর জন্মগ্রহণকে আপনি হয়তো বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে ধরে নিয়েছেন। কিন্তু আটলান্টিকের উপ-সম্পাদক অ্যালেক্সিস সি. মাদ্রিগাল পরিসংখ্যান ঘেটে দেখিয়েছেন যে- ১৯১৫ সালে জন্ম নেওয়া প্রতি ৫০টি শিশুর বিপরীতে ছিলো একটি করে যমজ শিশু। ২০১০ সালে এসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রতি ৩০ জনে একজন। মাত্র ৯৫ বছরে যমজ শিশু জন্ম নেওয়ার হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যদিও এর সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন- বেশি বয়সে মা হওয়াটা এর কারণ। আগে যেখানে ১৬-২৫ বছরের মধ্যেই নারীরা একধিক সন্তান নিতেন এখন ২৮-৩৪ বা তার চেয়েও বেশি বয়সে বাচ্চা নিচ্ছেন, যা যমজ শিশু জন্ম দেওয়ার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মতো উর্বরতা চিকিৎসার কারণেও যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়পড়তা ইন্দোনেশিয়ার মানুষদের উচ্চতা সবচেয়ে কম
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়পড়তা ইন্দোনেশিয়ার মানুষদের উচ্চতা সবচেয়ে কম সংগৃহীত ছবি

৪. বিশ্বের সর্বত্রই খাটো ও লম্বা দুই ধরনের মানুষই রয়েছে। তবে ২০১৭ সালে টেলিগ্রাফের বিভিন্ন বৈশ্বিক উৎস থেকে সংকলিত তথ্য অনুসারে- বিশ্বের সবচেয়ে খাটো মানুষদের বসতি ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির গড়পড়তা প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চতা ৫ ফুট দেড় ইঞ্চি।

তাহলে বিশ্বের গড়পড়তা কোন দেশের বাসিন্দারা সবচেয়ে লাম্বা? এমন প্রশ্ন নিশ্চিয়ই আপানর মাথায় উঁকি দিচ্ছে! তবে আপনাকে হতাশ করবো না। টেলিগ্রাফের ওই সংকলনেই জানানো হয়েছে যে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষ বাস করে নেদারল্যান্ডসে। যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের গড় উচ্চতা ৬ ফুট।

একদিনেই ১৭৪ দেশের রাষ্ট্রনেতারা প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন
একদিনেই ১৭৪ দেশের রাষ্ট্রনেতারা প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেনসংগৃহীত ছবি

৫. সম্প্রতি বিশ্বে যতগুলো চুক্তি সম্পন্ন তার মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি জলবায়ু রক্ষা ও মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চুক্তি। ২০১৬ সালে ধারিত্রি দিবসে ফ্রান্সের প্যারিসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যেখানে বিশ্বের ১৭৪টি দেশের নেতারা নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

তবে এখানে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই প্রথম ও একমাত্র কোন চুক্তি, যেখানে একদিনেই ১৭৪টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। যদিও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।

পৃথিবীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিকায়
পৃথিবীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিকায়সংগৃহীত ছবি

৬. অফিসে ঢুকেই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এসির রিমোট হাতে নিয়ে তাপমাত্রা কমিয়ে দিলেন। সহকর্মীরা বিরক্ত হয়ে বললো- অ্যান্টার্কটিকা গেলে ভালো হয় না! অথবা শীতে হালকা জামা-কাপড় পরে ঘুরছেন, দেখে বন্ধুরা বললো- একে অ্যান্টার্কটিকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া উচিত! তবে সাবধান! অ্যান্টার্কটিকার হাড় হিম করা শীত পরখ করে দেখতে যাবেন না যেন!

কারণ, পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন এই মহাদেশে এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে -৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস! যা আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহে স্বরণকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এ তাপমাত্রায় নিঃশ্বাস গ্রহণ করলে মাত্র এক মিনিটেই মৃত্যু অবধারিত।

মানুষের মাত্র ৭ শতাংশ পৃথিবীতে বেঁচে আছে
মানুষের মাত্র ৭ শতাংশ পৃথিবীতে বেঁচে আছেসংগৃহীত ছবি

৭. লেখার শুরুর দিকে উল্লেখ থাকলেও আরেকবার জানাচ্ছি- পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি। হোমো সাপিয়েন্স বা আমাদের আধিনিক মানুষ দৃশ্যপটে এসেছে ৫০ হাজার বছর ধরে।

এই সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে মোট ১০০ বিলিয়ন মানুষের জন্ম হয়েছে। এদের মধ্যে আমাদের নিয়ে মোট সাড়ে ৭০০ কোটি মানুষই বেঁচে আছে। অর্থাৎ পৃথিবীতে যারা বসবাস করেছেন তাদের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৭ শতাংশ বর্তমানে বসবাস করছি। যার একজন আপনি!

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম মুহাম্মদ
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম মুহাম্মদ সংগৃহীত ছবি

৮. জন, জেমস, মেরি ও জেন এই নামগুলোকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম মুহাম্মদ বা সংক্ষেপে মো.। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের মতে- বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮০- ২০০ কোটি মুসলিম রয়েছে। যাদের ৮০ শতাংশের নাম অথবা নামের আগে মো. বা মোহাম্মদ থাকে। এটি ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মাদ সা. এর নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়।

পৃথিবীতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিসীমা রেকর্ড হয়েছে ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার!
পৃথিবীতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিসীমা রেকর্ড হয়েছে ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার!সংগৃহীত ছবি

৯. বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে শতাব্দির প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার৷ এতে নিহত হয় প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ। আর এক কোটিরও বেশি মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ তবে পৃথিবীতে এর চেয়ে বেশি গতিতেও বাতাস প্রবাহিত হয়েছে।

১৯৯৬ সালে অলিভিয়া নামক একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় অস্ট্রেলিয়ার ব্যারো দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানে। ঝড়টি অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড ভেঙেছিল। দ্য ওয়েদার চ্যানেলের মতে, এই ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২৫৩ মাইল!

পান্ডার আদি নিবাস চীনে
পান্ডার আদি নিবাস চীনেসংগৃহীত ছবি

১০. এতগুলো বিস্ময়কর বা অবাক করা তথ্য পেয়ে হয়তো আপনার বিস্মিত হওয়ার প্রবণতা আপাতত কিছুটা কমে গেছে। তাই আপনাকে চমকে দিতে এই তথ্য! এশিয়া-ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া অথবা বাংলাদেশ; আপনি যে দেশের চিড়িয়াখানাতেই যান না কেন সেখানকার যে পান্ডা দেখতে পাবেন তা ধার করা!

পান্ডার আদি বাসস্থান চীনে। এই প্রাণীটি চীন সরকারের সম্পত্তি। তাই কোন দেশ এর মালিক হতে পারে না। তবে কেবল ধার হিসেবে প্রাণীটিকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে, মানুষকে জীববৈচিত্রের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com