মাঙ্কিপক্স : পুরুষদের যৌনসঙ্গী কমানোর পরামর্শ ডব্লিউএইচওর

মাঙ্কিপক্স : পুরুষদের যৌনসঙ্গী কমানোর পরামর্শ ডব্লিউএইচওর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমশ বেড়েই চলেছে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ। সমকামী পুরুষদের মধ্যে এ ভাইরাস বেশি ছড়ানোয় তাদের ‘যৌনসঙ্গী কমানোর’ পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই পুরুষ। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সপ্তাহের শুরুতে মাঙ্কিপক্সকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ‘জরুরি সতর্কতা’ হিসেবে ঘোষণা করেন ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে ভালো উপায়- ঝুঁকির রাস্তা থেকে সরে আসা। এ ক্ষেত্রে যৌনসঙ্গীর সংখ্যা কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, যারা সঙ্গী হিসেবে পুরুষকে বেছে নেন, তাদের সাবধান থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যৌনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সংযমী ও সচেতন হওয়া গেলে এ রোগের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। তবে আত্মরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করছে নিজের ওপর।’

ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাঙ্কিপক্সের ৯৫ শতাংশ সংক্রমণই ছড়িয়েছে যৌন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া ৯৮ শতাংশই সমকামী বা উভকামী পুরুষ। যারা আক্রান্ত হওয়ার আগের তিন মাসে গড়ে পাঁচজন যৌনসঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।

মাঙ্কিপক্স যৌনবাহিত সংক্রমণ নয়, তবে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংসর্গে মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। গবেষণা এই ইঙ্গিত দেয় যে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের বেশির ভাগ ঘটনাই যৌন ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।

মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশকিছু উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ অন্যতম। প্রথম পর্যায়ে রোগীর জ্বর আসে, পাশাপাশি শরীরে দেখা দেয় ফোস্কা ও অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি ওঠে। পরে শরীরের অন্যান্য অংশ- উরু ও যৌনাঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌম্য স্বামীনাথন এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভাইরাস (মাঙ্কিপক্স) ছড়িয়ে পড়ার এ ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রাণঘাতী সব রোগের প্রাদুর্ভাবের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

মাঙ্কিপক্সের টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাভারিয়ান নরডিক’ নামের ডেনমার্কভিত্তিক একটি কোম্পানি এ ভাইরাসের টিকা তৈরি করেছে। তবে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের হাতে নেই। তাই এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আপাতত সতর্ক থাকার ওপরই জোর দেন তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com