বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্ট না ছাড়ার নির্দেশ আল-সদরের

ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর
ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর

পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সমর্থকদের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরেই অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর। বুধবার (৪ আগস্ট) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ মাস ধরে নির্বাচিত সরকার ছাড়াই চলছে ইরাক। দীর্ঘ এই সময়ে দেশটিতে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, আল-সদরের এই নির্দেশনার মধ্য দিয়ে তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

দেশটির বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি সব পক্ষকে আলোচনার জন্য একত্রিত করাতে ‘জাতীয় সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। বুধবার রাষ্ট্রপতি বারহাম সালেহের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও করেন তিনি।

আল-কাদিমি বলেন, ‘এটা এখন স্পষ্ট যে আল-সদর এবং তার প্রতিনিধিরা এই পর্যায়ে কোনো ধরনের জাতীয় সংলাপে অংশ নিচ্ছেন না। যা আমাদের জাতীয় সংকটকে আরও বেশি দীর্ঘায়িতক করবে। এটা কাম্য নয়।’

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে আল-সদর বলেন, ‘আমি সংলাপ চাই না, এমন গুজব বিশ্বাস করবেন না। আমরা এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে (বিরোধী রাজনৈতিক দল) সংলাপের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিজ্ঞতা হলো- এটি কেবল ধ্বংস ও দুর্নীতি ছাড়া জাতির জন্য কিছুই বয়ে আনেনি।’

পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে মুক্তাদা আল-সদরের প্রতিপক্ষ, ইরানপন্থী মোহাম্মদ আল-সুদানিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার আগেই গত শনিবার দ্বিতীয় বারেরমতো ভবনটির দখলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রীন জোনে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও ইরাকের পার্লামেন্ট ভবন অবস্থিত। গত শনিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা ডিঙ্গিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।

ওই সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২৫ জন নিহত হন। ফলে অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। এর আগে গত বুধবারও পার্লামেন্টের দখল নিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের দখলে ইরাকের পার্লামেন্ট
বিক্ষোভকারীদের দখলে ইরাকের পার্লামেন্ট

কয়েকদিন পেরিয়ে গেলে এখনও পার্লামেন্ট ভবন দখলে রেখেছেন সদরপন্থীরা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, পার্লামেন্ট ভবনে তাবু টানিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন তারা। এ ছাড়া ভেতরেই চলছে রান্নার কাজ।

এর আগে গত অক্টোবরের দেশটির সাধারণ নির্বাচনে বেশিরভাগ আসন পায় মুক্তাদা আল সদরে দল। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয় তারা।

এরপর পার্লামেন্ট থেকে তার জোটকে প্রত্যাহার করে নেন আল-সদর। ঘোষণা দেন, সরকার গঠনের আলোচনায় অংশ নেবেন না তারা। এরপর অচলবস্থার মধ্যেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের এই দাবি জানালেন তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com