পুতিন-এরদোয়ান বৈঠক আজ, যেসব বিষয়ে হতে পারে আলোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁয়ে) ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁয়ে) ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শস্য রপ্তানি চুক্তির সফল মধ্যস্থতার পর শুক্রবার (৫ আগস্ট) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কৃষ্ণসাগরের কোলঘেঁষা রাশিয়ার সূচিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত মাসের শেষের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনের সাইড লাইনে বৈঠক করেছিলেন পুতিন-এরদোয়ান। এর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে আজ আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রভাবশালী এই দুই নেতা।

শস্য রপ্তানি চুক্তির মধ্যস্থতা করায় মস্কোর কাছে আঙ্কারার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে গড়ে তুলতে চান এরদোয়ান। তেহরান সম্মেলনে ইরান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করলেও দুই পক্ষের কাছ থেকেই তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখী হয়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এখন প্রেক্ষাপট কিছুটা বিভন্ন।
সংক্ষেপে

পুতিন চাইবেন এরদোয়ানের মতো কেউ তুরস্কের ক্ষমতায় থাকুক। তার ক্ষমতায় থাকার জন্য এই অভিযানটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে, এর পরও এই অভিযান চালাতে পারলে আগামী বছরের মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচনে নিজের পক্ষে ভোট টানতে পারবেন এরদোয়ান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এরদোয়ানের প্রভাব ও ভাবমূর্তি দুটোই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোয় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়া রাশিয়া এমন একজনকে নিজের পক্ষে টানতে দরকষাকষিতে কিছুটা ছাড় দিতেই পারেন। আর সেই আশায় আবারও অভিযান চালানোর প্রস্তাব উত্থাপন করবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। হয়তো ওইপিজি ও পিকেকের বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক অভিযান চালানোয় নমনীয়তা দেখাতেও পারেন পুতিন।

মস্কোভিত্তিক তুর্কি রাজনৈতিক বিশ্লেষক কেরিম হাস আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা তেহরান শীর্ষ সম্মেলনে দেখেছি, ইরান ও রাশিয়া এই অভিযানের (উত্তর সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে) বিপক্ষে। আমি মনে করি, এরদোগান পুতিনকে রাজি করাতে পারবেন।

‘পুতিন চাইবেন এরদোয়ানের মতো কেউ তুরস্কের ক্ষমতায় থাকুক। তার ক্ষমতায় থাকার জন্য এই অভিযানটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে, এর পরও এই অভিযান চালাতে পারলে আগামী বছরের মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচনে নিজের পক্ষে ভোট টানতে পারবেন এরদোয়ান।’

তবে তুরস্কের পররষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করবেন পুতিন-এরদোয়ান। এ ছাড়া জ্বালানি ও অর্থনীতি-সহ রাশিয়ার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষীক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করবে তুরস্কো।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com