ওডেসায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তবুও শস্য আমদানি করবে ইউক্রেন

শনিবারের ওই হামলার পর আগুন নেভাতে কাজ করছে 
ইউক্রেনের দমকল বাহিনী।
শনিবারের ওই হামলার পর আগুন নেভাতে কাজ করছে ইউক্রেনের দমকল বাহিনী।রয়টার্স

কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর রপ্তানি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল ইউক্রেন। কিন্তু চুক্তির ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই দেশটির ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রাশিয়া। ফলে মস্কো আদৌ এ চুক্তি মেনে চলবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান কিয়েভ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে- রাশিয়ার এই হামলাকে 'বর্বরতা' বলে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে মস্কো প্রমাণ করলো গত শুক্রবার আঙ্কারায় জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায়, বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে চুক্তি করা হয়েছিল রাশিয়া সেই বিশ্বাসের অবমূল্যায়ন করেছে।

ইউক্রেনের একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, হামলা সত্ত্বেও তারা পুনরায় শস্য রপ্তানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর দেশটির প্রচারমাধ্যম সাসপেলিন সামরিক বাহিনীর বরাতে জানিয়েছেন- ওই হামলায় ওডেসা বন্দরের তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।

গত শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আশা করছিলেন, চুক্তিটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে। কিন্তু রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সংস্থাটি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি ও ইতালি এই হামলায় উদ্বেগ জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা করেছে।ড়

এক ভিডিওতে দেখা গেছে- দমকল বাহিনী হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে ভিডিওটির সত্যতার বিষয়ে তারা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। আর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- এই হামলার সঙ্গে মস্কোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা আঙ্কারাকে জানিয়েছে।

ইউক্রেন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ওডেসার বন্দরটিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া মোট চারটি ক্যালিভার ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে দিলেও বাকি দুইটি বন্দরে আঘাত হানে। আর দেশটির বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাট জানিয়েছেন, ক্রাইমিয়ার কাছাকাছি কৃষ্ণসাগরে অবস্থান করা রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবারের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া দেশটির অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী ওলেকসান্দার কুবরাকভ এই হামলার পর জানিয়েছেন, 'আমরা আমাদের বন্দর থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি শুরু করতে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের খাদ্যশস্যের যোগান দেওয়া বড় দুটি দেশ। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর রপ্তানি যুদ্ধের আগের ‘ছয় ভাগের এক ভাগে’ নেমে আসে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য শস্যের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। দুর্ভিক্ষ এড়াতে বিশ্ব বাজারে গম, সূর্যমুখী তেল, সার এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহ করাই এই চুক্তির লক্ষ্য।

চুক্তির অধীনে যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই প্রতি মাসে পাঁচ মিলিয়ন মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হবে। এ ছাড়া রাশিয়ার সার এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না, জাতিসংঘের সাথে এ ধরনের পৃথক একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করেছে মস্কো।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com