ইরানফোবিয়া : আঞ্চলিক উত্তেজনায় ঘি ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করতে ইরানের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে,অভিযোগ তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করতে ইরানের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে,অভিযোগ তেহরানেরসংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ইরানফোবিয়ার (ইরানভীতি) মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকে আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে সফর শেষ করার একদিন পর এমন দাবি করলো তেহরান।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের খানানি সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ইরানফোবিয়া’ এর মতো ব্যর্থ নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও এই অঞ্চলে সংকট ও উত্তেজনা বাড়াতে অপচেষ্টা করছে।

ওয়াশিংটনের সমালোচনা করে নাসের খানানি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা অন্য দেশের ওপর পরমাণু বোমা ফেলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে জড়িয়ে শান্তিকে নির্বাসিত করেছে এবং এ অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে এ-কে অশান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের খানানি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের খানানিসংগৃহীত ছবি

চিরশত্রু ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সমর্থনের কথা উল্লেখ করে কানানি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূমিতে অব্যাহত দখলদারিত্ব, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নিপীড়ন এবং বর্ণবাদমূলক আচরণের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। কারণ দেশটির অন্ধ সমর্থনের কারণে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তেলআবিব।’

আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনে আরও বলা জানানো হয়েছে- ইরানকে প্রতিহত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে নয়টি আরব দেশকে নিয়ে জেদ্দায় সম্মেলন করেছেন বাইডেন। বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের অন্যতম প্রধান কারণ- আরব দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ইরানকে একঘরে করে রাখা। আর তার এই সফর শেষে বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার একদিন পরই দেশটির কঠোর সমালোচনা করে এমন বিবৃতি দিলো ইরান।

ইরানের প্রভাব কমাতে নয়টি আরব দেশকে নিয়ে জেদ্দায় সম্মেলন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
ইরানের প্রভাব কমাতে নয়টি আরব দেশকে নিয়ে জেদ্দায় সম্মেলন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনরয়টার্স

জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে বাইডেন আরব দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেন- যুক্তরাষ্ট্র তাদের থেকে সরে যায়নি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ছেড়ে যাচ্ছে না৷ কারণ, ওয়াশিংটন চায় না- চীন, রাশিয়া অথবা ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করুক।’ এ ছাড়া ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট কাজ করে যাবে বলেও জানান বাইডেন।

বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে না। এ নিয়ে পশ্চিমারা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে৷ ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে মাথাব্যথা থাকলেও ইসরায়েলি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবতারও সমালোচনা করা হয় ওই বিবৃতিতে।

ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের এমন এক দেশ, ধারণা করা হয় দেশটির কাছে অন্তত ১০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। কিন্তু তারা নিজেদের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেনি। সেই সঙ্গে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও কখনোই অনুমতি দেয়নি ইহুদীবাদী এই দেশটি। আর যুক্তরাষ্ট্র বা তার কোন পশ্চিমা মিত্রও ইসরায়েলের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কখনো কোন উচ্চবাচ্য করেনি।

যাইহোক, মধ্যপ্রাচ্যে সফরকালে ইরানের তৈরি নির্ভুলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম শাহেদ-১৯১ ও শাহেদ-১২৯ ড্রোন নিয়েও উদ্বেগ জানান বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে- চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এই ড্রোন ব্যবহার হতে পারে। এ জন্য গোপনে মস্কোর সঙ্গে আলোচানা চালিয়েছে তেহরান, এমন দাবি করেছে ওয়াশিংটন। তবে তেহরান এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ড্রোন শাহেদ-১২৯। ২০১২ সালে সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রোনটির এই সংস্করণ ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়
ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ড্রোন শাহেদ-১২৯। ২০১২ সালে সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রোনটির এই সংস্করণ ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়সংগৃহীত ছবি

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গোলাবারুদপূর্ণ ড্রোন বহনে সক্ষম জাহাজ ও সাবমেরিনের উদ্বোধন করেছে ইরান। এর আগে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের কৌশলগত মিত্রদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে তারা যদি ইরানের বিষয়ে খারাপ কোন পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এর ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে, যার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com