গর্ভকালীন থাইরয়েড সমস্যা হলে কী করবেন?

গর্ভকালীন থাইরয়েড সমস্যা হলে কী করবেন?
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের শারীরিক ও মানসিক প্রজননসহ সুস্বাস্থ্য থাকার ক্ষেত্রে থাইরয়েডের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এজন্য সুস্থ থাকতে হলে আমাদের খাইরয়েড সম্পর্কে জানতে হবে এবং জেনে বুঝে চলতে হবে। গর্ভকালীন থাইরয়েড সমস্যা হলে করণীয় কী সেই বিষয়ে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

প্রেগনেন্সিতে থাইরয়েডের কী ধরনের প্রভাব থাকে?

ডা. শাহজাদা সেলিম ‍: প্রেগনেন্সির আগে থেকে থাইরয়েডের প্রভাব থাকে। দম্পতি বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছেন। এক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হলো নারীর থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে। সমস্যা বলতে হাইপারথাইরয়েডীয়জম। আমাদের বাংলাদেশে দেখা যায় যে, থাইরয়েড গ্রন্থি বড় এবং গলগণ্ড বা গয়টার রয়েছে। গয়টার থাকা মানে থাইরয়েডের সমস্যা, ফাংশনের সমস্যা রয়েছে, হরমোন তৈরিতে সমস্যা রয়েছে এমনটা নাও হতে পারে। কিন্তু প্রধান কারণ হলো হাইপারথাইরয়েডীজম ও হাইপোথাইরয়েড।

তিন মাসের অধিক সময় ধরে গর্ভবতী নারীর বমি হচ্ছে না। বমির জন্য ওষুধ দেওয়ার পর এখন মোটামুটি বমি হচ্ছে। তাহলে কীভাবে বোঝা যাবে যে তার থাইরয়েড হয়েছে কিনা?

ডা. শাহজাদা সেলিম ‍: সাধারণত গর্ভধারনের প্রথম দিকে বমি বা বমির ভাব হয়ে থাকে। সেটি কম-বেশি হতে পারে। তবে কার কত বেশি বমি হবে সেখানে থাইরয়েডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। থাইরয়েডীয় হরমোনের মাত্রা যত বেশি হবে গর্ভকালীন বমির ভাব হওয়ার প্রবণতা ততই বেশি হবে। যেসব নারীর বমির মাত্রা তীব্র হয় তাদের থাইরয়েডীয় হরমোনোর মাত্রাটা বেশি হয়। এজন্য কারো বমি বেশি হলে হরমোন বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে থাইরয়েযের মাত্রা চেক করে নিতে হবে।

কারো কনসুগারের আগে থাইরয়েড ৫.৮৫ ছিল। এখন ০.১৫ এবং ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন তাহলে কি ওষুধ নিয়মিত খেতেই হবে নাকি বাদ দেওয়া যাবে?

ডা. শাহজাদা সেলিম ‍: ওষুধ বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়. গর্ভধারনের আগে থাইরয়েডের ফাংশন ভালো ছিল। কিন্তু গর্ভাবস্থায় সমস্যা হচ্ছে। সাধারণভাবে চিকিৎসার পদ্ধতিটা এমন যে, কেউ যদি গর্ভধারনের আগে খাইরক্সিন ট্যাবলেট খান চিকিৎসকরা সেই ট্যাবলেট দেড় গুণ করে দেন। ওষুধ বাদ দিতে হবে সেটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। অর্থ্যাৎ ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে।

মুখে লোমের ক্ষেত্রে কী থাইরয়েড সমস্যা থাকে?

ডা. শাহজাদা সেলিম ‍: এটি বহুদিনের একটি সনাতন সমস্যা। এখন যদিও ক্রমশ পলিসিসথিক অপারিথিনডমের সঙ্গে আমরা মুখের লোমের বেশি সম্পর্ক পাচ্ছি। তবুও হাইপারথাইরয়েডীয় হরমোনোর উৎপাদন কম হচ্ছে। সেখানে মুখের লোমের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যখন চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করাতে যাবেন তখন চিকিৎসক যে দুটি পরীক্ষা দেবেন তার মধ্যে একটি হবে থাইরয়েডীয় মাত্রার পরীক্ষা।

প্রেগনেন্সি অবস্থায় সুগার বেশি হলে বেবির কোনো ক্ষতি হবে কিনা?

ডা. শাহজাদা সেলিম ‍: সকল প্রেগনেন্সি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেগনেন্সিতে শুধু বেবির জন্য নয় বরং মা এবং সন্তানের উভয়ের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয় ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস। সেটি গর্ভকালীন কিংবা গর্ভাবস্থার আগেও হতে পারে। এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে যখন সুগার টার্গেটে রাখা যাবে না। এখানে টার্গেটে বলতে খালি পেটে যতবার দেখবেন তখন ব্লাড সুগার ৫.৩ এর নিচে থাকতে হবে এবং খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ব্লাড সুগার ৬.৭ এর নিচে থাকতে হবে। যদি বেশি থাকে তাহলে ইনসুলিনের পরিমান বাড়াতে হবে। ইনসুলিন বাড়িয়ে টার্গেটে আনতে হবে।

হাইপারথাইরয়েডীজমের সমস্যা রয়েছে সেক্ষেত্রে থেরাপি দিতে চাইলে থেরাপি দেওয়ার কতদিন পর বেবি নেওয়া যাবে?

‌ডা. শাহজাদা সেলিম ‍: পুরুষদের ক্ষেত্রে যদি রেডিও অ্যাব্লাসন থেরাপির কথা বলা হয় তাহলে অন্তত সর্বোচ্চ ৬ সপ্তাহ গ্যাপ দিতে হবে। আর ট্যাবলেট খেযেও যদি থাইরয়েডীয়জম ঠিক থাকে তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রেও ৬ সপ্তাহ গ্যাপ দিতে হবে। তবে নারীদের ট্যাবলেট খেয়ে সন্তান প্রসব করা উচিত নয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com