বিএসএমএমইউর গবেষণা : ৫৮ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোয় স্বাস্থ্যসেবার অনেক ঘাটতি রয়েছে। দেশের প্রায় ৫৮ দশমিক ৮০ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই। অনেক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া উপজেলা হাসপাতালে ৬৩ শতাংশ মেডিকেল অফিসার এবং ৭৭ শতাংশ জুনিয়র-সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ খালি। এসব কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বিএসএসএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হসপিটালে এক সেমিনারে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গবেষক দলের প্রধান মো. খালেকুজ্জামান গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নেই। ফলে বিভিন্ন সময় চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মুখোমুখি হন, যা স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৯টি জেলা হাসপাতাল ও ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সার্ভে চেকলিস্টের মাধ্যমে

হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ৭৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, তত্ত্বাবধায়ক, মেডিকেল অফিসারের মতামত ও সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে গবেষণা কাজ সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৫৮ দশমিক ৮০ শতাংশ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা থাকলেও ৪১ দশমিক ২ শতাংশ হাসপাতালে এ সেবা পাওয়া যায় না। তবে দেশের জেলা পর্যায় হাসপাতালে এ সেবা ১০০ শতাংশ। ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ৪১ দশমিক ২ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে এক্স-রে সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ জেলা হাসপাতাল ও ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করার ব্যবস্থা থাকলেও ৪৫ দশমিক ৬০ শতাংশ জেলা হাসপাতাল এবং ৮৮ দশমিক ২০ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে এ সেবার বাইরে। এ ছাড়া ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশ জেলা হাসপাতাল ও ৬৪ দশমিক ৭০ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে মহিলা অ্যাটেনডেন্টদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের জন্য ১০০ শতাংশ ডরমেটরি ও কোয়ার্টার থাকলেও জেলা পর্যায়ে এ সুবিধা আছে ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উপজেলায় ব্যবহার উপযোগী ডরমেটরি পাওয়া গেলেও জেলা পর্যায়ে এ হার শূন্য। 

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে আছে সেবাকক্ষ প্রয়োজনের তুলনায় কম, আয়তনে ছোট, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন টয়লেটের পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে। 

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, রাজনৈতিক নেতাদের অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ ও প্রভাব, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু গণমাধ্যমকর্মীর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ চিকিৎসকদের সেবা দানে বাধা সৃষ্টি করে। গবেষকদের পক্ষ থেকে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলে মনে করে গবেষক দল।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চিকিৎসকদের সংখ্যা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এতে তারা কাজের চাপে থাকেন। তা ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে, এটি থাকবেই। রাতারাতি দেশের সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না। তবে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় কিছু জায়গায় আনসার মোতায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব হাসপাতালেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী, দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতালের এক্স-রেসহ সব মেশিনপত্র নষ্ট। এগুলোর দায় সিভিল সার্জন এবং ইউএইচএফপিওদের নিতে হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান ভালো হলে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক টিটো মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com