অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্ত

ফারদিন নুর পরশ।
ফারদিন নুর পরশ।ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশকে কারা, কেন হত্যা করেছে—সে রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি এখনো। পুলিশ আপাতত তার এক বান্ধবীকে ঘিরে তদন্ত চালালেও তার সংশ্লিষ্টতায় অকাট্য প্রমাণও পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে হত্যার নেপথ্যে আরও কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মেধাবী ওই শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হতে পারেন কিনা এবং কোনো সহপাঠীর সঙ্গে ঝামেলা ছিল কিনা, সেই বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র‌্যাব চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত করছে। এরই মধ্যে পরশের এক বান্ধবী ছাড়াও তার বন্ধুসহ অন্তত ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে যাওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর ডেমরার বাসা থেকে বের হন পরশ। বাসায় বলে গিয়েছিলেন, শনিবার পরীক্ষা থাকায় ক্যাম্পাসের হলে বন্ধুদের কাছে থাকবেন। কিন্তু তিনি ওইদিন পরীক্ষায় অংশ নেননি, বাসায়ও ফেরেননি। পরে রামপুরা থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় লাশ মেলে তার। ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক জানিয়েছেন, পরশকে হত্যা করা হয়েছে।

ফারদিন নুর পরশ।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত

ছায়াতদন্তের সঙ্গে যুক্ত ডিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে পরশ তার এক বান্ধবীকে নিয়ে রিকশায় ঘুরেছেন। ওই বান্ধবী ডিবিকে বলেছেন, ঘোরাঘুরি শেষে তাকে রামপুরায় বাসা এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পরশ চলে যান। কোথায় যাবেন, তা তাকে বলেননি। ওই বান্ধবীর কথার সূত্র ধরে রামপুরা এলাকায় কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে এর সত্যতা মিলেছে। তবে পরশের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান দেখা গেছে জুরাইন এলাকায়। শুক্রবার রাত ১০টার পর ওই মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা হয়নি।

ওই সূত্রটি জানায়, পরশের সঙ্গে তার বান্ধবীর পুরোনো কল রেকর্ড যাচাই করা হয়েছে। তাতে এখনো পর্যন্ত মনে হচ্ছে তাকে খুন করা হতে পারে—এমন কোনো মনোমালিন্য ছিল না। ওই বান্ধবীর অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও এটা খুনের কারণ হতে পারে—এখনো এমন অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। ওই ছাত্রকে ছিনতাইকারীরা খুন করেছে কিনা, তার সঙ্গে কোনো সহপাঠী বা বন্ধুর বিরোধ ছিল কিনা, তা-ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, একটি খুনের পেছনে যত কারণ থাকতে পারে, এর সবই তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। নিহত পরশের অতীত কার্যক্রমও যাচাই করা হচ্ছে। তাকে কোথায় খুন করা হলো, ছিনতাইকারীদের কবলে পড়লে মোবাইল ফোন খোয়া গেল না কেন, জুরাইনে খুন করার পর লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেললে তা শীতলক্ষ্যায় যেতে পারে কিনা—সে বিষয়েও যাচাই চলছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পরশ খুনের রহস্য নিয়ে তারা অন্ধকারে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি মতিঝিল বিভাগের ডিসি রাজীব আল মাসুদ কালবেলাকে বলেন, পরশ নিখোঁজ হওয়ার পর রামপুরা থানায় একটি জিডি হয়েছিল। ওই জিডির সূত্র ধরে তারা ছায়াতদন্ত করছেন। তবে এখনো বলার মতো তদন্তে অগ্রগতি হয়নি।

পাহাড়ে গরিবের ভিটে দখল করে মন্ত্রিপত্নীর খামার

পরশের এক স্বজন জানান, পরশ হত্যার তদন্ত একাধিক সংস্থা করলেও তারা সমন্বয়হীনতা দেখছেন। ডিবি তার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও র‌্যাব পরশের স্বজদের ভাষ্য নিচ্ছে। তার ল্যাপটপও র‌্যাবের কাছে রয়েছে। তবে খুনের কারণ কেউই বলছে না।

ওই স্বজন বলেন, পরশের বাবা দিনভর র‌্যাবের কাছে ছিলেন। তার কাছ থেকে নানা তথ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি ক্লান্ত হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা করতে পারেননি। তার চাচাতো ভাইকেও র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com