এবার শিক্ষকের গায়ে হাত তুললেন ঢাবি সাদা দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক

এবার শিক্ষকের গায়ে হাত তুললেন ঢাবি সাদা দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক
প্রতীকী ছবি

সহকর্মীকে হত্যার হুমকিসহ নানা কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি সমর্থিত সাদা দল থেকে সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার সাদা দলের এক শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠেছে। তবে, গায়ে হাত তোলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে সাদা দলের পূর্ব নির্ধারিত সভায় এ ঘটনা ঘটে। সভায় অনুষদের ১৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সাদা দলের পূর্ব নির্ধারিত সভা ছিল। সভায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত থাকা অবস্থায় জোর পূর্বক প্রবেশ করেন মিজানুর রহমান। এসময় তাকে বাণিজ্য অনুষদের আহ্বায়ক ও অন্য সহকর্মীরা সভা থেকে চলে যেতে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়।

এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন মিজানুর রহমান। তবে অন্য শিক্ষকরাও তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন। পরে আরও চড়াও হয়ে সাদা দলের এক শিক্ষকের গায়ে হাত তোলেন মিজানুর রহমান। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড কালবেলার হাতে রয়েছে।

নির্যাতিত ওই শিক্ষক ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাদা দলের একজন সদস্য। তিনি নাম লিখতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এঘটনায় হতবাক মিটিংয়ে উপস্থিত সাদা দলের অন্যান্য শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল সমর্থিত শিক্ষক আল-আমিন কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের পূর্ব নির্ধারিত মিটিং ছিল। সেখানে আমরা ১৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলাম। মিজান স্যার বর্তমানে সাময়িকভাবে বহিষ্কার আছেন। মিজান স্যার মিটিংয়ে আসলে আহ্বায়কসহ অনেকে তাকে চলে যেতে অনুরোধ করেন, যেহেতু এটি আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু অনুরোধ করার পরেও তিনি যাবে না বলে বসে থাকেন। এ সময় আমাদের আরেক সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে তার গায়ে হাতও তোলেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত।’

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো মিজানুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘গায়ে হাত দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। অপেন ফোরাম। এখানে গায়ে হাত তোলার কোন সুযোগই নেই।’

এদিকে সাদা দলের ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আহ্বায়কের কাছে লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে দরখাস্ত করেছেন ভূক্তভোগী ওই শিক্ষক। জানা গেছে, তিনি আবেদনে বলেছেন- ‘অধ্যাপক মিজান আমার গায়ে হাত তুলে, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মো. রফিকুল ইসলাম যদি তাকে না থামাতো, আমাকে অনেক বেশি আঘাত করত। উক্ত বিষয়ের আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং এই ধরণের সদস্য দলে থাকলে সাদা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। কারণ উক্ত ব্যক্তি তার বিভাগের নিজ শিক্ষককেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন ইতিপূর্বে।’

গায়ে হাত তোলার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘আমাদের আজ পূর্বনির্ধারিত সভা ছিল। আমাদের অধ্যাপক মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও উনার উপস্থিত থাকার কথা ছিল না। কারণ ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে বলা হয়েছিল আপনি সাময়িকভাবে এখন থেকে অবহতিপ্রাপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অব্যহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাধারণত মিটিংয়ে আসে না বা তাকে কোনো ধরনের আমন্ত্রণ করা হয় না। তিনি আজকের মিটিংয়ে আমন্ত্রিত না হলেও, তিনি মিটিংয়ে আসেন। মিটিংয়ে আসার পর তিনি আমাদের মূল যে এজেন্ডা ছিল সেই এজেন্ডায় বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেন যা আমাদের জন্য খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। মিটিংয়ের শেষ দিকে আরও বেশি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের শিক্ষকরা একে অপরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। মিটিং শেষে সবাই চলে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তারা দুজন কাছাকাছি আসেন। এ সময় গায়ে হাত তোলার একটি বিষয় আমার নজরে এসেছে।’

এ বিষয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি শুনেছি। দলীয় বিষয়, দলীয়ভাবে দেখব।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com