হয়রানি বন্ধে ২৪ ঘণ্টা ধরে ঢাবি ছাত্রের অনশন

আট দফা দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর অনশন।
আট দফা দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর অনশন।ছবি : কালবেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা রকম হয়রানি বন্ধে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনশন করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ নামের এক ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে অনশন শুরু করেন তিনি। সে হিসাবে আজ বুধবার সকাল ১১টায় তার অনশনের ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো তাকে দেখতে আসেনি বলে জানান হাসনাত। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে হাসনাতের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসুর সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

হাসনাত আবদুল্লাহর শরীর অসুস্থ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। পরে জ্ঞান ফিরলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দাবি না মানা পর্যন্ত তিনি স্থান ত্যাগ করবেন না বলে জানান।

অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।ছবি : কালবেলা

ঢাবির ছাত্র হাসিব আল আমিন কালবেলাকে বলেন, ‘ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো না। তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। বেশ কিছু রোগে ভুগছেন। আমরণ অনশন বিষয়টা সত্যিই তার জন্য কষ্টদায়ক। বর্তমানে তিনি অনেক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। ভাইয়ের কিছু হলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’

এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘আমার শরীরের অবস্থা ভালো না। আমার আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমি এই স্থান ত্যাগ করব না।’

গত ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন ও হয়রানি বন্ধে ৮ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন হাসনাত আবদুল্লাহ। পরে তিনি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি এবং দাবি পূরণে ১০ দিনের আলটিমেটাম দেন। সে দাবি পূরণ না হওয়ায় গতকাল থেকে তিনি অনশন শুরু করেন।

আট দফা দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর অনশন।
ছয় দফা দাবিতে ঢাবি প্রশাসনকে ছাত্রীদের তিন দিনের আল্টিমেটাম

দাবিগুলো হলো

শিক্ষার্থীদের হয়রানি নিরসনের জন্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন করতে হবে। যেখানে সেবাগ্রহীতারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযোগ জানাতে পারেন; প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজড করতে হবে; নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিসসমূহের প্রতিটি কক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

প্রশাসনিক ভবনে অফিসসমূহের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করতে হবে। ডিসপ্লেতে অভিযোগের নাম, কক্ষ নম্বর ও সেখানে প্রদত্ত সেবার বিবরণী, কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি প্রদর্শন করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনেরও সংস্কার করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক, পেশাদারিত্ব, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মানসিক সেবা প্রদানকারী বিভাগ ও সেন্টারসমূহের শরণাপন্ন হতে হবে।

অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত থাকতে পারবেন না। সে নিরিখে প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত কর্মঅফিস বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্লাবসমূহে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচারণা পরিবেশবান্ধব করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য হানিকর ও পরিবেশ বিপর্যয়কর পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com