সমস্যা নিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে রেজিস্ট্রার ভবনে আসতে হবে না : ঢাবি উপাচার্য

বুধবার ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর অনশন ভাঙান উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।
বুধবার ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর অনশন ভাঙান উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।ছবি : কালবেলা

কোনো শিক্ষার্থীকে তাদের সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আসতে হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর আমরণ অনশন ভাঙাতে গিয়ে এ কথা বলেন উপাচার্য।

উপাচার্য বলেন, ‘আজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে আর রেজিস্ট্রার অফিসে আসতে হবে না। তাদের সব কাজের সেবা তাদের হল অফিস, বিভাগের অফিস, ইনস্টিটিউটের অফিস দেবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক জটিলতায় সৃষ্ট নানা রকম হয়রানি বন্ধসহ আট দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর পানি খাইয়ে তার অনশন ভাঙান উপাচার্য।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে অনশন শুরু করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। অনশনের অর্ধদিন পার হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন। পরে তার দাবি মেনে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবিগুলো হলো

শিক্ষার্থীদের হয়রানি নিরসনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন করতে হবে। যেখানে সেবাগ্রহীতারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযোগ জানাতে পারেন; প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজড করতে হবে; নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিসগুলোর প্রতিটি কক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

বুধবার ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর অনশন ভাঙান উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।
হয়রানি বন্ধে ২৪ ঘণ্টা ধরে ঢাবি ছাত্রের অনশন

প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করতে হবে। ডিসপ্লেতে অভিযোগের নাম, কক্ষ নম্বর ও সেখানে প্রদত্ত সেবার বিবরণী, কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি প্রদর্শন করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনেরও সংস্কার করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক, পেশাদারিত্ব, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মানসিক সেবা প্রদানকারী বিভাগ ও সেন্টারগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে।

অফিস চলাকালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত থাকতে পারবেন না। সে নিরিখে প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত কর্মঅফিস বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্লাবগুলোতে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালে প্রচার পরিবেশবান্ধব করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য হানিকর ও পরিবেশ বিপর্যয়কর পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com