কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নামে ‘অভিযোগের পাহাড়’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী।ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে প্রক্টর হওয়া, মাদককে প্রশ্রয়, ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নির্লিপ্ততা, উপাচার্যের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, সম্প্রসারিত প্রকল্পে ভূমি বাণিজ্য, প্রভাব বিস্তার করে ভূমি বাণিজ্যে জড়িতদের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ পাইয়ে দেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ থাকলেও বহাল তবিয়তে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর পদে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক জানান, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সহকারী অধ্যাপক মূলত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের প্রশাসনকে বিপথগামী করছেন। এমনকি বিভিন্ন উপাচার্যের প্রথমদিকে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের নামে স্বার্থ উদ্ধার করেন এবং শেষ সময়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৬ (সংশোধিত)-এর ১৫ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ভাইস চ্যান্সেলরের সুপারিশক্রমে, শিক্ষা প্রশাসনে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ন্যূনতম সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষকের মধ্য থেকে সিন্ডিকেট কর্তৃক দুই বছরের জন্য একজন প্রক্টর এবং প্রয়োজনে সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষকের মধ্য থেকে এক বা একাধিক সহকারী প্রক্টর যুক্ত হবেন।

গত ২২ মার্চ কাজী ওমর সিদ্দিকী ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭২ জন সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০ জন অধ্যাপক কর্মরত ছিলেন। ‘অজানা কারণে’ সহকারী অধ্যাপক হয়েও এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অধ্যাপক।

এদিকে একজন সহকারী অধ্যাপক ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী।
ভাইভায় মুখ না দেখানোয় নম্বরবঞ্চিত ঢাবিছাত্রী

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আইন আছে। সেটি অমান্য করে একজন সহকারী অধ্যাপককে এ পদে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৫ জন অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক আছেন। কেন দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যাখ্যা দিতে পারবে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ থেকে ৩৫ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দলের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, প্রক্টর সেখানে উপস্থিত থেকেও যথাযথ পদক্ষেপ নেননি। উল্টো তিনি এই সংঘর্ষকে বিভিন্নভাবে উসকে দিয়েছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অবরোধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ কালবেলাকে বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনায় খোদ প্রক্টরই সম্পৃক্ত। ছাত্রলীগের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য তিনি দুই হলের নির্দিষ্ট কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার কথা বলেছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক সরাসরি জড়িত। আমি গোয়েন্দা সংস্থাদেরও বিষয়টি জানিয়েছি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আল নাঈম বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে উত্তেজনার সৃষ্টি। এরপর রাতে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। প্রশাসনের উচিত ছিল তখনই পুলিশ মোতায়েন করা। কমিউনিটি অ্যাংগেজমেন্টের যে এজেন্ডা প্রশাসন বাস্তবায়ন করবে বলছে, সেটি প্রতিষ্ঠিত হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত বলে আমার মনে হয় না।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।ছবি : সংগৃহীত

অভিযোগ আছে, বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদকসেবীরা হাতেনাতে ধরা পড়লেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর না করে নামমাত্র মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন প্রক্টর। গত ১৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় মাদক সেবনরত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীসহ চারজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিম। তবে আটকদের কাজী ওমর সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে প্রক্টর অফিস থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

যদিও ওই সময়ে এ ঘটনায় উপস্থিত কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা তাদের (মাদকসেবীদের) আমাদের হাতে তুলে দেয়নি। প্রক্টর স্যারই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

গত ১৮ আগস্ট মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ১২ থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী মাদক গ্রহণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ উপস্থিত হয়ে মাদকসেবীদের চলে যেতে বলেন।

প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী তথ্য পেয়ে রেজাউল ইসলাম মাজেদকে সেখানে পাঠান এবং মাদকসেবীদের সটকে যেতে বলেন।

প্রশাসনিক কোনো ব্যক্তি তথ্য দেয়নি দাবি করে মাজেদ বলেন, ‘আমি এমনিতেই সেদিন হলের নিচে ছিলাম। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখতে পেয়ে তাদের চলে যেতে বলি। তবে তারা মাদক সেবন করছিলেন কিনা, সেটা বলতে পারব না।’

একই রকম ঘটনা ৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীকে সেখানে বসে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। যার ধারণকৃত ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এ ঘটনায় প্রতিবেদক তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ধরেননি। পরে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপও নিতে দেখা যায়নি।

ক্যাম্পাসে চলমান মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা যে কোনো স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে পারি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি না দিলে সেখানে আমাদের প্রবেশ করা সম্ভব নয়। আর এসব ঘটনা আমাদের আগে কেউ জানায়নি। কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

ভূমি বাণিজ্য

প্রক্টরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১১তম সভায় অনুমোদিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত। সম্প্রতি প্রকল্পে সীমাহীন ভূমি বাণিজ্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অধিগ্রহণের বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী ভূমি অধিগ্রহণের আগে ৬১১৩ ও ৬১১৪ নম্বর দাগে নিজের নামে জমি কিনে রাখেন।

নিজের নামে ছাড়াও অন্য ব্যক্তির নামেও জমি কিনেছেন তিনি। ৬১১৪ নম্বর দাগে জমির দখলদার আবদুর রাজ্জাক, আবদুছ সালাম হলেও সেখানে কাজী ওমর সিদ্দিকীর নম্বর দেওয়া আছে। আবদুর রাজ্জাক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের গাড়িচালক। অভিযোগ আছে, ওমর সিদ্দিকী উপজেলা চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠদের একজন।

আমার কোনো মন্তব্য নাই। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনের মধ্যে রেখেই দেওয়া হয়েছে। পদ দেওয়ার বিষয়ে আমি কেন মন্তব্য করব।
কাজী ওমর সিদ্দিকী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে অধিগ্রহণের আগে গত ১০ বছরেও কোনো জমি কেনাবেচা হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণের খবরে জমি কেনাবেচার হিড়িক পড়ে। যেখানে অধিগ্রহণের বিভিন্ন নথিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত এ প্রক্টরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে ব্যক্তিগত সিন্ডিকেট সদস্যদের পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত শেখ হাসিনা হলে নতুন প্রভোস্ট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক মো. সাহেদুর রহমানকে এবং ৪ আগস্ট নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হলে প্রাধ্যক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিল্লুর রহমানকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। যারা উভয়েই কাজী ওমর সিদ্দিকীর সঙ্গে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের আগে ৬১১৩ ও ৬১১৪ নাম্বার দাগে জমি কিনে রেখেছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, ভূমি বাণিজ্যে জড়িত একই ব্যক্তিরা কীভাবে প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক অভিযোগ করেছেন, ওমর সিদ্দিকী উপাচার্যের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের পদ পাইয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম স্বাধীনভাবে বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখছেন তারা।

সার্বিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব অনিয়ম-দুর্নীতির কথা জানেন না, নাকি জেনেও চুপ—সেটা বুঝে আসছে না।’

‘ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের উচিত, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখা। জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহ উদ্বেগের। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানান, ওমর সিদ্দিকী নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের একটি সিন্ডিকেট আছে, যারা যে কোনো উপাচার্যের আমলে তাদের বিশেষ ভাষা, পরিবেশ, পরিস্থিতি দিয়ে বশ করেন। পরে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও তারা বরাবরই ক্যাম্পাসে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এই অদৃশ্যমান শিক্ষক সিন্ডিকেটের একজন সক্রিয় সদস্য কাজী ওমর সিদ্দিকী।

এর আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর মেয়াদের শুরুর দিকে ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল ওমর সিদ্দিকী কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। আবার ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির সদস্য হন। পরে মেয়াদের শেষের দিকে প্রক্টর পদে নিয়োগ না পেয়ে এবং বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ শিক্ষকদের একটি অংশ এমরান কবির চৌধুরীর সরাসরি বিরোধিতা করে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ১০ ছাত্রের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার

অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন প্রক্টর

এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার কোনো মন্তব্য নাই। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনের মধ্যে রেখেই দেওয়া হয়েছে। পদ দেওয়ার বিষয়ে আমি কেন মন্তব্য করব।’

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নির্লিপ্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা উপস্থিত ছিলাম এবং হল প্রশাসনসহ আমাদের প্রক্টরিয়াল টিমকে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি। পদক্ষেপ নিইনি, এটা বানোয়াট কথা।’

মাদককে প্রশ্রয়ের বিষয়ে কাজী ওমর বলেন, ‘যাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছিল, তাদের পিতামাতাকে ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বাইরের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর বিভিন্ন সময়ে কারা মাদক গ্রহণ করেছে—এমন তথ্য আমার কাছে নেই। এগুলো অনুমাননির্ভর কথা।

‘কেন্দ্রীয় মাঠে যারা ছিল, তাদের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। একজন সহকারী প্রক্টর সেখানে গিয়েছিলেন।’

জমি কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার টাকা দিয়ে আমি জমি কিনেছি। এখন সেটা যদি অধিগ্রহণ এলাকায় পড়ে যায় আমি কী করব? আর আমরা শিক্ষকগণ মিলে জমি কিনতেই পারি। তবে আমি কাউকে পদ পাইয়ে দেব কীভাবে? উপাচার্য মহোদয় আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। উনার কাজে আমি কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করছি না।’

কী বলছেন উপাচার্য

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন কালবেলাকে বলেন বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই। আর আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তথ্য পেলে মন্তব্য করতে পারব।’

‘আমার একটাই কথা, যে বা যারাই অন্যায় করুক, তাদের সুবিচার হওয়া উচিত। তবে এর আগে যারা এসব অন্যায়ের বিচার করেনি, তাদেরও আগে প্রশ্ন করা উচিত।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com