নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী লিটনের বাবা বশির আহমেদের ওপর রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকাস্থ সুবর্ণচর উপজেলার শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী বশির আহমেদের ছেলে ও ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী লিটন মানববন্ধনে বলেন, আমার বাবা যখন রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন সন্ত্রাসীরা বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার বাবা দীর্ঘ আট-দশ দিন যাবৎ আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। যাদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা হামলার মদদদাতা ও হামলাকারীদের বিচার চাই।
লিটনের বোন মোর্শেদা আক্তার কাকলী বলেন, গত ১২ এপ্রিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বাবার ওপর হামলা চালানো হয়। গত দশ দিন ধরে বাবা আইসিইউতে। আজ যদি আমার বাবার কিছু হয়ে যেত, হাজার প্রতিবাদের বিনিময়েও কি আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারত? আজ এখানে আমার বাবার হামলার বিচারের জন্য দাঁড়াতে হবে তা আমি বা আমার পরিবার কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তারাও তো কোনো না কোনো বাবার সন্তান। তাদের মা-বাবার কাছে আমার প্রশ্ন, এ কেমন সন্তান গড়ছেন আপনারা? আমাদের সমাজ এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, সামান্য ক্ষমতার লোভ আর এক-দুই হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে একজন ষাটোর্ধ্ব মানুষকে খুনের চেষ্টা করতে বিবেকে বাঁধল না?
তিনি আরও বলেন, আমরা হাসপাতালে বেডে বসে প্রতিনিয়ত দোয়া করি, যেন কোনো সন্তান এই ধরনের অসহায় পরিবেশে না পড়ে। আমরা হাসপাতালের বেডে বসে বিচার চেয়ে যাই। আমার বাবা যদি রাজনীতি ব্যবহার করে অঢেল টাকা ও ক্যারিয়ার গড়তে, তাহলে হয়তো চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বিচার হয়ে যেত। বাবা সৎ পথে চলে আমাদের পড়াশোনা করিয়েছে বিধায় আমরা অসহায় হয়ে আছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে আমাদের বাবার ওপর হামলার বিচার চাই। একই সঙ্গে কেউ যেন চাইলেই কারও ওপর এমন নির্মম হামলা করতে না পারে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিক ইউসুফ আরেফিন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে বশির আহমেদকে চিনি। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ। তিনি তার তিন ছেলেমেয়েকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। তার মতো এমন গুণী মানুষকে হামলা করল কারা? সুবর্ণচর শান্তির জনপদ। সেখানে কখনো মামলা-হামলা মারামারি হয়নি। হঠাৎ করেই এই শান্ত জনপদের কী হয়েছে? একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের ওপর রাতের আঁধারে কেন এই ধরনের হামলা? হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। আমি অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আরমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সুবর্ণচরের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের সিনিয়র এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার আকবর আলী ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
মন্তব্য করুন