শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে ৭৯ দোকান বেহাত

শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে ৭৯ দোকান বেহাত

চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে ৭৯টি দোকান বেহাত হয়ে গেছে। ১৯৭৯ সালে দোকানগুলো মাসিক ভাড়াভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দোকানিরা শুরু থেকেই ভাড়া দেননি। ৪৩ বছর ধরে এ অবস্থা চললেও বরাদ্দ বাতিল করে প্লটগুলো উদ্ধার করেনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব দোকানের জমির বাজারমূল্য ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে বাস্তবে এগুলোর দাম আরও বেশি হবে বলে জানা গেছে।

এসব অনিয়ম নিয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পেশ করা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দ-ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব-সংক্রান্ত সর্বশেষ অডিট রিপোর্টে আপত্তি তুলেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) অফিস। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে বাসা বেঁধেছে নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম। এ ছাড়া জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হয়ে না ওঠার কারণেই গৃহায়নের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে। বেদখল জমি উদ্ধারে পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে নিয়ে সম্পত্তি উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কাজ কিছুটা এগিয়েছিল। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান বদলি হয়ে গেছেন। নতুন চেয়ারম্যানসহ শিগগির প্রয়োজনীয় জনবল চলে আসবে। দ্রুত আমরা অ্যাকশনে যাব।’

ভাড়া-সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৯ সালে শহরের শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে ৭৯টি দোকান বিভিন্ন শ্রেণির লোকের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সব দোকানের বরাদ্দপত্র পাওয়া যায়নি। নমুনাস্বরূপ একটি দোকানের বরাদ্দপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, যার নং-৪৭১৩/এও তারিখ: ২১.০৪.১৯৯০। ওই বরাদ্দপত্র মতে, প্রতি দোকানের আয়তন ৮৮ বর্গফুট এবং ভাড়া মাত্র ২২ টাকা। এই ২২ টাকা হারেও ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪০ বছর ধরে দোকান ভাড়া আদায় করার কোনো প্রমাণপত্র পায়নি পূর্ত অডিট অধিদপ্তর।

শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে ৭৯ দোকান বেহাত
প্রাথমিকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে নয়ছয়

তবে ১৯৯২ সালে দোকান অবৈধ দখলে রয়েছে উল্লেখ করে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবু কাজ হয়নি। এরপর আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখনো সেই আগের অবস্থা চলমান রয়েছে। দোকানিরা ভাড়া দেন না। দখলও ছাড়ছেন না। বরাদ্দ বাতিল করে বর্তমান দরে দোকানগুলো বরাদ্দ বা বিক্রি করা দরকার ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষও তা করেনি।

সূত্র মতে, গৃহায়নের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত ‘উপরি’ প্রাপ্তির কারণে এসব দোকান উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। সরকারি সম্পত্তি বেদখল থাকার পেছনে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বললেন, ‘আসলে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে সেখানকার লোকজনকে জনবান্ধব, সৎ ও দেশপ্রেমিক হতে হয়। এমন লোকের আসলেই এখন অভাব।’

জানা গেছে, ৭৯টি দোকানের মোট আয়তন ৬ হাজার ৯৫২ বর্গফুট বা ৯.৬৬ কাঠা। শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে প্রতি কাঠা আবাসিক জমির মূল্য সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা। তাই প্রতি কাঠা দোকান বা বাণিজ্যিক জমির মূল্য ৪০ লাখ টাকা। দোকানের মোট ৯.৬৬ কাঠা জমির মূল্য দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলা আর গাফিলতি এবং দোকানিদের সঙ্গে অনৈতিক বোঝাপড়ার কারণে সরকারি জমিগুলো প্রভাবশালী দখলদারদের হাতে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেরশাহ হাউজিং এস্টেটে ৭৯ দোকান বেহাত
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটছে বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, ‘এখানে স্থানভেদে কাঠাপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ লাখ, এমনকি কিছু জমি ৬০ লাখ টাকা দরেও বেচাকেনা হচ্ছে।’

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী বলেন, ‘অভিযান চালাতে যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন, তা আমাদের নেই। তাই অনেক সময় যথাসময়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আশা করছি, শিগগির জনবল সংকট কেটে যাবে।’

তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘টাকা’ নিয়েও লিজ চুক্তি সম্পন্ন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল সরকারকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভি করেননি।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নেজামুল হক মজুমদার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের ক্লার্করাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানবেন।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com