বিনিয়োগের সময় এখন অগ্নিনিরাপত্তায়

অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২২।
অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২২।ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরেণের পথে বাংলাদেশ। এই উত্তরণ ও তৎপরবর্তীতে বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি বাণিজ্যিক অবকাঠামো, শিল্পকারখানা তৈরি হবে। এসব স্থাপনা নির্মাণ বা শিল্পায়নের নিরাপত্তায় টেকসই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। আগামীতে দেশে অগ্নিনির্বাপক পণ্যের চাহিদাও বাড়বে। তাই এসব পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদনের সময় এসেছে। এর জন্য স্থানীয় বিনিয়োগকারীদেরই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) আয়োজিত অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২২ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকারের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পানমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, শিল্পায়নের জন্য অগ্নিনিরাপত্তা খুবই জরুরি। দেশ উন্নত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে বাড়ছে শিল্পকারখানা। তাই শিল্পকারখানার নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হওয়া দরকার। কারণ দেশে এখন অগ্নিনির্বাপক পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যারা এই খাতে কাজ করেন তারা যন্ত্রপাতি উৎপাদনে বেশি বেশি বিনিয়োগ করুন। দেশের চাহিদা মিটিয়েও এই শিল্প বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এর জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা সব সময় দিতে প্রস্তুত।

ইসাব সভাপতি জহির উদ্দিন বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মইন উদ্দিন এবং বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বক্তব্য দেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে দেশে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন ঘটবে। এজন্য নিরাপত্তা পণ্য বাজারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক বেশি। শিল্পায়নের জন্য এগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফ্রিজ উৎপাদন হবে, এটা কেউ কল্পনাও করেনি। এখন বাংলাদেশ থেকে টিভিও রপ্তানি হচ্ছে। নিরাপত্তা শিল্পেও অনেক সম্ভাবনা আছে, এটাকে কাজে লাগানো দরকার।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইন উদ্দিন বলেন, প্রত্যেক দিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনাকে মোকাবিলা করতে হয়। বড় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সামর্থ্য নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, শিল্পায়নের এ সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো দরকার। ১০০ সবুজ শিল্পকারখানার মধ্যে ৪৮টি বাংলাদেশের, এটা নিয়ে আমরা গর্বিত। এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আমরা আরও এগিয়ে যাব। দেশে নিরাপত্তা শিল্প গড়ে তুলতে খাত সংশ্লিষ্টদের সহায়তা দিতে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

মেলায় ৩০টিরও বেশি দেশের ১৬০টিরও বেশি বিশ্বব্যাপী স্বনামধন্য এবং নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। ২৫টি প্যাভিলিয়ন এবং ৫০টি বুথে সারা বিশ্ব থেকে অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী মেলা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নিবন্ধিত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com