গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের উৎপাদন দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) পুরোনো কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ গোপনে নিলাম করে বিক্রি করে দিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মিথুন নিটিংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
২ কোম্পানির আসছে ৪৪০ কোটি টাকার আইপিও শেয়ার

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান রনি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের একজন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

তদন্ত কমিটি গঠনের চিঠিতে বিএসইসি উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মিথুন নিটিংয়ের সার্বিক বিষয়ের ওপর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে মনে করে কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্স নং xvii)-এর ২১ ধারা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সালের ১৫ নম্বর আইন)-এর ১৭ক ধারা অনুযায়ী কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হলো। তদন্ত কর্মকর্তারা এ আদেশ জারির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিএসইসতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
লাগামহীন ওরিয়নের শেয়ার, দেখার যেন কেউ নেই!

বিএসইসি সূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি অতীতে আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান কমিশন অনেক অচল কোম্পানিকে সচল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিছু কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে। কোম্পানিগুলো সচল হলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ ফিরে পেতে পারেন। এর ধারাবাহিকতায় মিথুন নিটিং নিয়েও কাজ করছে কমিশন।

কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত নিচ্ছে কমিশন। এর ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছ থেকে মিথুন নিটিংয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়ে বেপজার নির্বাহী পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিল বিএসইসি।

বেপজাকে দেওয়া ওই চিঠিতে বিএসইসি বলেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিথুন নিটিংয়ের পরিশোধিত মূলধনের ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তাদের স্বার্থে গত ২৩ আগস্ট বিএসইসির সঙ্গে মিথুন নিটিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ এবং বেপজার প্রতিনিধির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বেপজার প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠকটি বাতিল করা হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষার স্বার্থে কোম্পানির হালনাগাদ তথ্য জানাতে বেপজাকে অনুরোধ করে বিএসইসি।

জানা গেছে, ব্যবসায় মন্দা পরিস্থিতিতে পড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, প্লটের লিজসহ নানা বকেয়া জমে যায় মিথুন নিটিংয়ের। বকেয়া আদায়ে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) পুরোনো কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নিলামে বিক্রি করেছে দিয়েছে বেপজা।

গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার তদন্ত করার নির্দেশ

এদিকে, কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নিলামে বিক্রির বিষয়ে মিথুন নিটিং কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কিছুই জানায়নি। যে কারণে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে জুয়াড়িদের চলছে সময়ে সময়ে টানাটানি। গত বছর নভেম্বরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১০ টাকার ঘরে। এখন এটি ১৮ টাকা ৮০ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে। যদিও এই দর কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস।

মিথুন নিটিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৮০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার ১৬২।

মোট শেয়ারেরর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি সর্বশেষ জানিয়েছে, কোম্পানিটি বন্ধ থাকার কারণে ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ও ক্যাশ ফ্লো শূন্য। এ ছাড়া সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরের তিন প্রান্তিকেও (জুলাই ’২১-মার্চ ’২২) বন্ধ থাকার কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ও ক্যাশ ফ্লো শূন্য রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com